মধু আনতে বাঘের মুখে Class 5 Bengali Question Answer Notes PDF

মধু আনতে বাঘের মুখে Class 5 Bengali Question Answer Notes PDF

✨ WBBSE Class 5
📖 পাতাবাহার বাংলা
📌 ১৩শ পাঠ সম্পূর্ণ নোটস

মধু আনতে বাঘের মুখে — শিবশঙ্কর মিত্র : সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর ও সমাধান

বিষয়
বাংলা সাহিত্য
অধ্যায়
মধু আনতে বাঘের মুখে
লেখক
শিবশঙ্কর মিত্র
পাঠ্যপুস্তক
পাতাবাহার

📖 গল্পের পরিচিতি ও সারমর্ম

মূলভাব: ‘মধু আনতে বাঘের মুখে’ গল্পটিতে সুন্দরবন বিশেষজ্ঞ লেখক শিবশঙ্কর মিত্র সুন্দরবনের গহিন অরণ্যে মধু সংগ্রহের এক গা ছমছমে রোমাঞ্চকর বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। শীতের শেষে ধনাই, আরজান ও কফিল—এই তিন মৌলি বন্ধু মিলে জঙ্গলে মধু কাটতে যায়। সুন্দরবনের চিরাচরিত নিয়ম মেনে আরজান মশাল জ্বেলে ধোঁয়া দেয়, কফিল ধামা ধরে এবং ধনাই কাস্তে দিয়ে গাছের মৌচাক কাটে।

জঙ্গলের ভেতর ধনাই যখন একটি সরু খাদ (শিষে) পার হতে যাচ্ছিল, তখন অকস্মাৎ এক বিশাল রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার তার ওপর আক্রমণ করে। কিন্তু বাঘটি ধনাইকে ডিঙিয়ে সোজা গিয়ে ধাক্কা খায় একটি তবলা গাছের গায়ে এবং উলটে শিষের কাদাজলে পড়ে যায়। সেই প্রচণ্ড ধাক্কায় ধনাইয়ের মাথায় থাকা মধুর কলস ভেঙে সমস্ত মধু বাঘের মুখে-চোখে ছিটকে পড়ে। মধু চোখে ঢোকায় বাঘটি সাময়িকভাবে কাবু ও অন্ধপ্রায় হয়ে পড়ে এবং এভাবেই অলৌকিকভাবে ধনাই সাক্ষাৎ মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পায়।

📚 গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ (Word Meanings)
শব্দ অর্থ শব্দ অর্থ
এক পা সর্বদা প্রস্তুত বা উদ্যত থাকা ডিঙি ছোটো ও হালকা কাঠের নৌকা
নাস্তা সকালের জলখাবার বা প্রাতরাশ পন্থা উপায়, কৌশল বা পথ
চট পাটের মোটা সুতোয় তৈরি কাপড় শুলো ম্যানগ্রোভ গাছের শ্বাসমূল
ধামা শস্য বা মধু মাপার বেতের ঝুড়ি তীক্ষ্ণ খুব ধারালো বা সূক্ষ্ম
গোঁয়ার একগুঁয়ে বা ভীষণ জেদি সাঁকো পারাপারের কাঠের বা বাঁশের সেতু
স্ফুর্তি উচ্ছ্বাস, আনন্দ বা হুল্লোড় হতভম্ব হতবাক / কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থা
১. জেনে নিয়ে করো (ভৌগোলিক ও পরিবেশগত তথ্য)
১.১ সুন্দরবনের যে অংশ পশ্চিমবঙ্গে রয়েছে, তা কোন দুটি জেলায় অবস্থিত?
উত্তর: সুন্দরবনের পশ্চিমবঙ্গীয় অংশটি মূলত দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা এবং উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলায় অবস্থিত।

১.২ সুন্দরবন অভয়ারণ্যের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নদীগুলির নাম লেখো।
উত্তর: সুন্দরবনের প্রধান নদীগুলি হলো— মাতলা, বিদ্যাধরী, কালিন্দী, রায়মঙ্গল, গোসাবা, ইছামতী, পিয়ালী ইত্যাদি।

১.৩ পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ অঞ্চলটি কোন সমুদ্র-উপকূলে অবস্থিত?
উত্তর: পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ অঞ্চল সুন্দরবন বঙ্গোপসাগরের উপকূলে অবস্থিত।

১.৪ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্য লেখো:
১. এই অঞ্চলের উদ্ভিদসমূহ উপকূলের লবণাক্ত ও কর্দমাক্ত পলিমাটিতে জন্মায়।
২. নরম কাদামাটিতে শক্তভাবে দাঁড়িয়ে থাকার জন্য এদের কান্ড থেকে ঠেসমূল বের হয়।
৩. কাদামাটিতে অক্সিজেনের ঘাটতি পূরণের জন্য মাটির ওপর খাড়াভাবে শ্বাসমূল (শুলো) গজিয়ে ওঠে।

২. গল্প থেকে তথ্য নিয়ে বাক্য সম্পূর্ণ করো
ধনাই মধু কাটতে গিয়েছিল আরজান আর কফিল-এর সঙ্গে। মধু কাটতে তিনজন লোক চাই। তিনজনের কাজ হলো— একজনের কাস্তে দিয়ে চাক কাটা, একজনের মশাল জ্বেলে ধোঁয়া দিয়ে মৌমাছি তাড়ানো, আর একজনের নীচে ধামা ধরা। বাঘ ধনাই-কে আক্রমণ করেছিল, কিন্তু সে নিজেই পড়ে গেল ‘শিষের’ ভিতর। মধুর কলস ভেঙে পড়ল বাঘের মাথার ওপর। বাঘের সারা মুখে মধু ছিটকে পড়ল।
৩. তিনজনের কাজের দায়িত্ব বিভাজন
চরিত্র নির্দিষ্ট দায়িত্ব / কাজ
ধনাই কাস্তে হাতে গাছে উঠে মধুর চাক কাটত।
আরজান কাঁচা ও শুকনো ডাল দিয়ে মশাল জ্বেলে ধোঁয়া দিয়ে মৌমাছি তাড়াত।
কফিল বড়ো বেতের ধামা হাতে চাকের নীচে দাঁড়িয়ে মধু সংগ্রহ করত।
৪. অর্থ লেখো
শব্দ অর্থ
ধামা শস্য বা মধু রাখার জন্য বেতের তৈরি বড়ো পাত্র বা ঝুড়ি
গোঁয়ার্তুমি একগুঁয়েমি, হঠকারিতা বা অবাধ্য জেদ
চট পাটের তৈরি মোটা কাপড় বা চটের বস্তা
হাজির উপস্থিত বা বিদ্যমান হওয়া
ঝিরঝিরে মৃদু, হালকা বা শান্ত বাতাস
৫. বাক্য রচনা করো
অর্থপূর্ণ বাক্যে প্রয়োগ:
নাস্তা: সকালবেলা গরম দুধ ও রুটির নাস্তা খেয়ে আমরা পাঠশালায় রওনা হলাম।
মৌচাক: আমাদের বাগানের প্রাচীন আমগাছের ডালে মৌমাছিরা বড়ো একটি মৌচাক বানিয়েছে।
রং: বসন্তকালে সুন্দরবনের গরান গাছে উজ্জ্বল হলুদ রং-এর ছোটো ছোটো ফুল ফোটে।
স্ফুর্তি: সুন্দরবনের নদীতে ডিঙি নৌকা ভাসিয়ে তিন বন্ধু মনের মহা স্ফুর্তিতে গান গাইছিল।
কলস: সংগৃহীত খাঁটি মধুতে ধনাইয়ের মাথার মাটির কলসটি কানায় কানায় ভরে উঠল।

৬. পদের শ্রেণিবিভাগ (শব্দঝুড়ি)
বিশেষ্য
পথ, বিশ্বাস
ডাঙা, শক্তি
চিৎকার

বিশেষণ
এক, ভুল, গোঁয়ার
বোঝাই, গভীর, সকল
সরু, ছোটো, বেজায়

সর্বনাম
তার
সে
ওদের

অব্যয়
আর
কিন্তু

ক্রিয়া
কাটে, তাড়ায়
মারল
নিয়েছে

৭. বিপরীতার্থক শব্দ লেখো
মূল শব্দ বিপরীত শব্দ মূল শব্দ বিপরীত শব্দ
কাঁচা পাকা দীর্ঘ হ্রস্ব / খাটো
ভর্তি খালি / শূন্য বোঝাই উন্মুক্ত / খালি
তীক্ষ্ণ ভোঁতা
৮. সমার্থক শব্দ লেখো
প্রতিটি শব্দের প্রতিশব্দ:
মৌমাছি: মধুকর, অলি, ভ্রমর, ভৃঙ্গ।
বাঘ: ব্যাঘ্র, শার্দূল, চিত্রগ্রীব।
ফুল: পুষ্প, কুসুম, প্রসূন।
বন: অরণ্য, জঙ্গল, কানন, বিপিন।
মাটি: মৃত্তিকা, ভূ, মেদিনী, অবনী।

৯. সুন্দরবনে বসবাসকারী বন্যপ্রাণী চিহ্নিতকরণ

সুন্দরবনে যেসব বন্যপ্রাণীর দেখা মেলে:

কুমির
হরিণ
কচ্ছপ
শিয়াল
কাঁকড়া
বাঁদর
সাপ
শজারু
বুনো শূকর
রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার

১০. সংক্ষিপ্ত তথ্যাবলি
১০.১ পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল কোথায় রয়েছে?
উত্তর: পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল অবস্থিত সুন্দরবনে

১০.২ সুন্দরবনের খ্যাতি ও সমাদরের দুটি প্রধান কারণ লেখো।
১. এটি পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ অরণ্য এবং বিশ্বখ্যাত রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার-এর প্রধান প্রাকৃতিক আবাসস্থল।
২. এখানকার খাঁড়ি ও মোহনা ঘেরা অপরূপ প্রাকৃতিক দৃশ্য এবং বিপন্ন প্রজাতির জলজ ও স্থলজ প্রাণীদের বৈচিত্র্য।

১০.৩ সুন্দরবনের কোন কোন গাছে সাধারণত মৌচাক দেখা যায়?
উত্তর: সুন্দরবনের সাধারণত খলসি, গেঁওয়া, কেওড়া এবং গরান ইত্যাদি গাছে মৌচাক দেখা যায়।

১১. ‘ক’ স্তম্ভের সঙ্গে ‘খ’ স্তম্ভ মেলাও
‘ক’ স্তম্ভ ‘খ’ স্তম্ভ (অর্থ / সমার্থ)
মধু মৌচাক
নাস্তা জলখাবার
কাস্তে কাটারি
ডিঙি ছোটো নৌকা
শিষে ছোটো সরু খাদ
সাঁকো সেতু
১২. গল্পের ঘটনাগুলি ক্রমানুসারে সাজিয়ে লেখো
১২ সঠিক ঘটনাক্রম বিন্যাস:
১. পেটপুরে নাস্তা খেয়ে বনে মধু কাটার জন্য তৈরি হলো। (১২.৩)
২. ডিঙি করে অনেক দূর বনের ভিতর গিয়ে তিনজনে ডাঙায় উঠেছে। (১২.৫)
৩. মনের আনন্দে একটার পর একটা মধুর চাক কেটে চলেছে। (১২.১)
৪. আরজান এক থাবা কাদা তুলে গোল করে পাকিয়ে নিয়ে ছুঁড়ে মারল চাক লক্ষ করে। (১২.২)
৫. কয়েকটা মৌমাছি ওদের দিকে তাড়া করল। (১২.৪)

১৩. লেখক পরিচিতি (শিবশঙ্কর মিত্র : ১৯০৯ – ১৯৯২)
১৩.১ শিবশঙ্কর মিত্রের লেখালেখির প্রিয় বিষয় কোনটি?
উত্তর: শিবশঙ্কর মিত্রের সাহিত্যসাধনার অন্যতম প্রধান ও প্রিয় বিষয় হলো ‘সুন্দরবনের অরণ্য ও তার জীবন’

১৩.২ কোন বইয়ের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ শিশু সাহিত্যের পুরস্কার পান?
উত্তর: তিনি তাঁর কালজয়ী শিশুতোষ গ্রন্থ ‘সুন্দরবন’-এর জন্য ১৯৬২ সালে শ্রেষ্ঠ শিশুসাহিত্যের রাষ্ট্রীয় সম্মান লাভ করেন।

১৩.৩ সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে লেখা তাঁর দুটি বিখ্যাত বইয়ের নাম লেখো।
উত্তর: তাঁর রচিত দুটি বিখ্যাত গ্রন্থ হলো— ‘সুন্দরবনের আরজান সর্দার’ এবং ‘রয়াল বেঙ্গলের আত্মকথা’ (এছাড়াও ‘বিপদে মোরে রক্ষা করো’)।

১৪. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো
১৪.১ বসন্তকালে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক রূপ কেমন থাকে?
১. বসন্তের শুরুতে সুন্দরবনের গরান গাছে ছোটো ছোটো হলুদ ফুলের মেলা বসে।
২. সকাল থেকেই মিষ্টি ফুলের সুবাসে গোটা অরণ্য আমোদিত হয়ে ওঠে।
৩. ফুলের গন্ধে আকৃষ্ট হয়ে ঝাঁকে ঝাঁকে মৌমাছি গুনগুনিয়ে মধু সংগ্রহ করতে আসে।
৪. স্নিগ্ধ ঝিরঝিরে দক্ষিণা বাতাস বয়ে চলে যা বনে এক পরম মনোরম পরিবেশ সৃষ্টি করে।
৫. প্রাকৃতিক এই সজীবতায় সুন্দরবন এক নতুন রঙিন সাজে সেজে ওঠে।

১৪.২ সুন্দরবনে মধু সংগ্রহ করতে গেলে তুমি কাকে সঙ্গে নেবে এবং কী কী সরঞ্জাম নিয়ে যাবে?
উত্তর: আমি সঙ্গে অভিজ্ঞ স্থানীয় মৌলিদের এবং দুজন সাহসী সঙ্গীকে নেব। সঙ্গে নেব—কাস্তে, বড়ো বেতের ধামা, মশাল জ্বালানোর শুকনো খড় ও দেশলাই, মধু রাখার বড়ো ক্যানিস্টার বা টিন, মোটা চটের জামা, লাঠি এবং জরুরি ফার্স্ট এইড বক্স।

১৪.৩ & ১৪.৪ ‘বাংলার বাঘ’ ও ‘বাঘাযতীন’ নামে কারা পরিচিত?
বাংলার বাঘ: শিক্ষাবিদ স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ‘বাংলার বাঘ’ নামে পরিচিত।
বাঘাযতীন: প্রখ্যাত স্বাধীনতা সংগ্রামী বিপ্লবী যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় ‘বাঘাযতীন’ নামে পরিচিত।

১৪.৫ ‘সুন্দরবনে মধু সংগ্রহ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’—এই বিষয়ে পাঁচটি বাক্য লেখো:
১. সুন্দরবনের গহিনে যে-কোনো মুহূর্তে ওত পেতে থাকা রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের আক্রমণের ভয় থাকে।
২. কাদামাটির ভেতর লুকোনো ধারালো শ্বাসমূলে পা কেটে পড়ে যাওয়ার চরম আশঙ্কা থাকে।
৩. গাছের মৌচাক ভাঙার সময় বিষাক্ত মৌমাছির হুল ফুটে মারাত্মক জখম হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
৪. নদী ও খাঁড়ি পারাপারের সময় নরখাদক কুমির ও হাঙরের আক্রমণের ভয় সবসময় তাড়া করে।
৫. পথঘাটহীন দুর্গম অরণ্যে দিকভ্রান্ত হয়ে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও অত্যন্ত বেশি।

১৪.৬-১৪.৮ সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
ধনাই কীসের মন্ত্র জানে? ➔ ধনাই মৌমাছিকে ভুল পথে চালিত করে বশ করার মন্ত্র জানে।
গরান ফুলের রূপ কেমন? ➔ গরান ফুল আকারে ছোটো ছোটো এবং সুন্দর হলুদ রঙের হয়।
ডিঙি করে কারা মধু কাটতে গিয়েছিল? ➔ ধনাই, আরজান এবং কফিল ডিঙি করে মধু কাটতে গিয়েছিল।

১৪.৯ টীকা লেখো : ‘ট্যাক্’ ও ‘শিষে’
ট্যাক্: সুন্দরবনে দুটি ছোটো নদী বা খাঁড়ি যেখানে এসে একসঙ্গে মেশে, সেখানে উৎপন্ন হওয়া ত্রিকোণাকার ছুঁচলো ভূখণ্ডকে স্থানীয় ভাষায় ‘ট্যাক্’ বলা হয়।
শিষে: সুন্দরবনের বনের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া ছোটো, সরু অথচ গভীর পিচ্ছিল জলের খাত বা খাদকে ‘শিষে’ বলা হয়।

১৪.১০ মধুর চাক খুঁজে পাওয়ার কৌশলটি কী?
উত্তর: ফুল থেকে মধু মুখে নিয়ে মৌমাছিরা সার বেঁধে আকাশের কোন দিক বরাবর উড়ে চলেছে, তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তা লক্ষ্য করে মৌমাছিদের উড়ার পথ অনুসরণ করাই হলো মৌচাক খোঁজার মূল পন্থা।

১৪.১১-১৪.১৩ বাঘের আক্রমণ ও ধনাইয়ের বাঁচার বিবরণ
পিছনে তাকানোর দৃশ্য: বন্ধুদের ডাকার জন্য পিছন ফিরে তাকানো মাত্রই ধনাই দেখে বিকট হুংকার ছেড়ে এক অতিকায় বাঘ বাতাসে শূন্যে ডানা মেলার মতো তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে।
শিষের ভিতর বাঘের পতন: ধনাই সেসময় সরু শিষে পার হতে যাচ্ছিল। ফলে বাঘের ঝাঁপ ধনাইকে ছাড়িয়ে গিয়ে সোজা আছড়ে পড়ে খাদের ওপরের একটি তবলা গাছের গুঁড়িতে এবং বাঘটি উলটে ধপাস করে কাদাভর্তি শিষের ভেতর পড়ে যায়।
ধনাইয়ের অলৌকিক মুক্তি: বাঘের ধাক্কায় ধনাইয়ের মাথায় রাখা মধুর ভারী মাটির কলসটি চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে সোজা বাঘের মাথায় পড়ে। মিষ্টি ও আঠালো মধু বাঘের চোখ-মুখে ছিটকে পড়ায় বাঘটি চোখ পিটপিট করে অন্ধের মতো ফোঁৎ ফোঁৎ করতে থাকে। বাঘটি সাময়িকভাবে পুরোপুরি কাবু হয়ে পড়ায় ধনাই রক্ষা পায়।

সম্পূর্ণ নোটসের প্রিন্টেবল PDF পেতে চান?

ক্লিক করলেই প্রথম পেজে আকর্ষণীয় কভার পেজসহ সম্পূর্ণ নোটসের অফলাইন PDF প্রিন্ট রেডি হয়ে যাবে।

❓ সচরাচর জিজ্ঞাস্য (FAQ)
Q1. ‘মধু আনতে বাঘের মুখে’ গল্পটি কার লেখা?
গল্পটি সুন্দরবনের রোমাঞ্চকর কাহিনীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কথাসাহিত্যিক শিবশঙ্কর মিত্র-র লেখা।

Q2. সুন্দরবনে মধু কাটতে কতজন লোকের প্রয়োজন হয়?
সুন্দরবনের চিরাচরিত নিয়ম অনুযায়ী মধু সংগ্রহে ৩ জন লোকের প্রয়োজন হয়—একজন মশাল জ্বেলে ধোঁয়া দেয়, একজন গাছে উঠে কাস্তে দিয়ে চাক কাটে এবং অন্যজন ধামা ধরে মধু সংগ্রহ করে।

Q3. বাঘের মুখ থেকে ধনাই কীভাবে অলৌকিকভাবে রক্ষা পেয়েছিল?
বাঘটি লাফ দিয়ে তবলা গাছে ধাক্কা খেয়ে খাদে পড়ে যায় এবং ধনাইয়ের মাথার মধুর কলস ভেঙে মধু বাঘের চোখে-মুখে ছিটকে পড়ায় বাঘটি কাবু হয়ে যায়; ফলে ধনাই বেঁচে যায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top