✨ WBBSE Class 5
📖 পাতাবাহার বাংলা
📌 ৬ষ্ঠ অধ্যায় সম্পূর্ণ নোটস
ওরে গৃহবাসী — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর : ভাবার্থ, শব্দার্থ ও পূর্ণাঙ্গ প্রশ্নোত্তর
বিষয়
বাংলা সাহিত্য
অধ্যায়
ওরে গৃহবাসী (গান / কবিতা)
কবি ও সুরকার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
পাঠ্যপুস্তক
পাতাবাহার
📖 গানের পরিচিতি ও সারমর্ম (Overview)
মূলভাব: ‘ওরে গৃহবাসী’ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত একটি চিরন্তন ও অত্যন্ত জনপ্রিয় বসন্তের গান। গানটি মূলত শান্তিনিকেতনের দোলযাত্রা ও বসন্তোৎসবের আনন্দময় পটভূমিকায় রচিত। ঋতুরাজ বসন্তের আবির্ভাবে সমগ্র প্রকৃতি এক অপরূপ নতুন রঙে সেজে উঠেছে। জলে, স্থলে এবং বনতলে সর্বত্র শুরু হয়েছে রঙের খেলা।
প্রকৃতির এই মুক্ত আনন্দ ও রঙের উৎসবকে অন্তরে গ্রহণ করার জন্য কবি ঘরের কোণে আবদ্ধ গৃহবাসীদের দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে আসার আকুল আহ্বান জানিয়েছেন। গানটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গীতবিতান’ সংকলনের ‘প্রকৃতি’ পর্যায়ভুক্ত একটি কালজয়ী সৃষ্টি।
📝 কবিতার বিস্তারিত বিষয়বস্তু ও ব্যাখ্যা (Detailed Analysis)
পর্ব ১ গৃহবাসীদের প্রতি কবির উদাত্ত আহ্বান (“ওরে গৃহবাসী, খোল্, দ্বার খোল্…”)
বসন্তের সমীরণে প্রকৃতিজুড়ে উৎসবের সূচনা হয়েছে। জলে, স্থলে আর বনের পাতায় পাতায় লেগেছে রঙের ছোঁয়া। কবি গৃহবাসীদের বলছেন ঘরের দরজা খুলে বাইরে বের হয়ে আসতে, কারণ চারপাশের সাজানো প্রকৃতিতে রঙ ও আনন্দের মেলা বসেছে—এখন আর ঘরের কোণে অলসভাবে বসে থাকার সময় নেই।
পর্ব ২ প্রকৃতির রঙিন সাজ ও ফুলের মেলা (“রাঙা হাসি রাশি রাশি অশোকে পলাশে…”)
ঋতুরাজের আগমনে রক্তলাল অশোক ও পলাশ ফুলে বনভূমি ভরে উঠেছে। কবি কল্পনা করেছেন যেন গাছেরা লাল হাসিতে মেতে উঠেছে। ভোরের নরম রোদের আকাশে লাল আভা ছড়িয়ে পড়েছে এবং নবীন কচি কিশলয়ে বসন্তের চঞ্চল হাওয়ায় রঙের দোলা লেগেছে।
পর্ব ৩ বাতাস ও জীবজগতের আনন্দধারা (“বেণুবন মর্মরে দখিন বাতাসে…”)
দক্ষিণা বাতাসে বাঁশবাগানে পাতা নড়ার মিষ্টি খসখস (মর্মর) শব্দ হচ্ছে। শ্যামল ঘাসের উপর রঙিন প্রজাপতিরা ডানা মেলে আনন্দে দোল খাচ্ছে। ফুলে ফুলে উড়ে গিয়ে মৌমাছিরা মধু প্রার্থনা করছে, আর তাদের গুঞ্জনে মনে হচ্ছে যেন কোনো ভিখারির হাতের বীণা বেজে উঠেছে। মাধবীলতার সুবাসে দক্ষিণা বাতাস মাতোয়ারা হয়ে উঠেছে।
📚 গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ (Word Meanings)
| শব্দ |
অর্থ |
শব্দ |
অর্থ |
| গৃহবাসী |
যে ঘরে বাস করে / আবদ্ধ মানুষ |
বেণুবন |
বাঁশবাগান |
| দ্বার |
দরজা বা কবাট |
মর্মর |
শুকনো পাতা নড়ার খসখস ধ্বনি |
| দোল |
দোলযাত্রা / বসন্তোৎসবের রঙের মেলা |
দখিন বাতাস |
দক্ষিণ দিক থেকে আসা বসন্তের বাতাস |
| বনতল |
অরণ্য বা বনের নীচের ভূমি |
মউমাছি |
মৌমাছি / মধুকর |
| রাঙা |
লাল রঙের / উজ্জ্বল রঞ্জিত |
যাচি |
প্রার্থনা করে / চেয়ে নেওয়া |
| অশোক / পলাশ |
বসন্তের উজ্জ্বল লাল রঙের ফুল |
দখিনা |
দক্ষিণা বা উপহার / প্রণামী |
| নবীন |
নতুন বা কচি পাতা |
বীণা |
তারযুক্ত সুমধুর বাদ্যযন্ত্র |
| হিল্লোল |
তরঙ্গ, দোলা বা ঢেউ |
মাধবীবিতান |
মাধবীলতা গাছের কুঞ্জ বা বাগান |
| প্রভাত |
ভোরবেলা বা সকালবেলা |
বিভোল |
আত্মহারা / বিভোর / আত্মমগ্ন |
✍️ কবি পরিচিতি (বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১ – ১৯৪১)
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ কবি, নাট্যকার, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, সংগীতস্রষ্টা এবং সুরকার। তাঁর রচিত অগণিত গান ‘গীতবিতান’ সংকলনগ্রন্থে বিভিন্ন পর্যায়ে বিন্যস্ত রয়েছে। গানগুলির সঠিক স্বরলিপি সংকলিত রয়েছে ‘স্বরবিতান’ গ্রন্থের বিভিন্ন খণ্ডে।
আমাদের পাঠ্য ‘ওরে গৃহবাসী’ গানটি তাঁর ‘গীতবিতান’ গ্রন্থের ‘প্রকৃতি’ পর্যায়ভুক্ত একটি পরম জনপ্রিয় ও কালজয়ী ঋতুসংগীত।
❓ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর ও জিজ্ঞাস্য
১ ‘ওরে গৃহবাসী’ গানটি কার লেখা এবং এটি কোন বই থেকে নেওয়া হয়েছে?
উত্তর: ‘ওরে গৃহবাসী’ গানটির রচয়িতা ও সুরকার বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। গানটি তাঁর বিখ্যাত সংগীত সংকলন ‘গীতবিতান’-এর ‘প্রকৃতি’ পর্যায় থেকে গৃহীত হয়েছে।
২ কবি কাদের এবং কেন দরজা খোলার আহ্বান জানিয়েছেন?
উত্তর: কবি ঘরের ভেতরে আবদ্ধ মানুষদের অর্থাৎ গৃহবাসীদের দরজা খোলার আহ্বান জানিয়েছেন। কারণ ঋতুরাজ বসন্তের সমাগমে জলে, স্থলে ও বনতলে রঙিন দোলোৎসব শুরু হয়ে গেছে। প্রকৃতির এই অনাবিল মুক্ত আনন্দ ও রঙের মেলায় শামিল হওয়ার জন্যই তিনি তাদের বাইরে আসার ডাক দিয়েছেন।
৩ বসন্তকালে প্রকৃতিতে কোন কোন ফুলে চারপাশ লাল হয়ে ওঠে?
উত্তর: বসন্তকালে গাছে গাছে ফুটে ওঠা উজ্জ্বল লাল রঙের অশোক এবং পলাশ ফুলে সমগ্র বনভূমি রাঙা হয়ে ওঠে।
৪ মৌমাছিদের ডানার গুঞ্জনধ্বনিকে কবি কিসের সঙ্গে তুলনা করেছেন?
উত্তর: মৌমাছিরা যখন ফুলের কাছে মধু প্রার্থনা করে ডানায় গুঞ্জন তোলে, সেই সুরকে কবি একজন দ্বারে আসা ভিখারির হাতের বাজানো বীণার মধুর শব্দের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
৫ বসন্তের বাতাসে প্রকৃতির কোন কোন রূপ প্রত্যক্ষ করা যায়?
উত্তর: বসন্তের দখিনা বাতাসে বাঁশবাগানে শুকনো পাতার খসখস মর্মর শব্দ ওঠে, কচি ঘাসের বুকে রঙিন প্রজাপতিরা আনন্দে ডানা মেলে ওড়ে এবং মাধবীলতার কুঞ্জে ফোটা ফুলের মিষ্টি সুবাসে চারপাশের বাতাস বিভোল হয়ে ওঠে।