✨ WBBSE Class 5
📖 পাতাবাহার বাংলা
📌 ৫ম অধ্যায় সম্পূর্ণ নোটস
পাখির কাছে, ফুলের কাছে — আল মাহমুদ : সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর ও সমাধান
বিষয়
বাংলা সাহিত্য
অধ্যায়
পাখির কাছে, ফুলের কাছে
কবি
আল মাহমুদ
পাঠ্যপুস্তক
পাতাবাহার
📖 কবিতার পরিচিতি ও সারমর্ম
মূলভাব: ‘পাখির কাছে, ফুলের কাছে’ কবিতায় কবি আল মাহমুদ রাতের এক অপরূপ মায়াবী পরিবেশ ও প্রকৃতির প্রতি আত্মিক ভালোবাসার চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন। এক গভীর রাতে নারকেল গাছের মাথায় ডাবের মতো ঠান্ডা ও গোলগাল চাঁদ উঠতে দেখে কবি মুগ্ধ হন এবং কাউকে না জাগিয়ে চুপিচুপি ছিটকিনি খুলে বাইরে বেরিয়ে আসেন।
বাইরে এসে তিনি দেখেন নিস্তব্ধ শহর যেন ঠান্ডায় থরথর করে কাঁপছে। মিনার ও গির্জা পেরিয়ে লালদিঘির পাড়ে পৌঁছাতেই তিনি দেখেন জোনাকিদের চমৎকার সভা বা দরবার বসেছে। দিঘির কালো জল, জোনাকি, ফুল ও পাখিরা কবিকে ডেকে পকেট থেকে পদ্যের বই বের করে কবিতা শোনানোর আবদার জানায়। তখন কবি প্রকৃতির সেই অনাবিল আনন্দে মুগ্ধ হয়ে পাখির কাছে ও ফুলের কাছে নিজের মনের কথা কবিতার ছন্দে মেলে ধরেন।
📚 গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ (Word Meanings)
| শব্দ |
অর্থ |
শব্দ |
অর্থ |
| গোলগাল |
ভরাট / গোলাকার |
উটকো |
অপরিচিত / অনাহূত |
| ছিটকিনি |
দরজা-জানলা বন্ধ করার হুড়কো |
দরবার |
সভা বা বৈঠক |
| ঝিমধরা |
অবসন্ন / নিস্তব্ধ ভাব |
দিঘি |
সুবিশাল বড়ো জলাশয় বা পুকুর |
| মিনার |
উঁচু সৌধ বা গম্বুজ |
কলরব |
বহু লোকের সমবেত কোলাহল |
| গির্জে |
গির্জা (খ্রিষ্টানদের উপাসনালয়) |
ছড়া |
ছোটোদের উপযোগী মিষ্টি কবিতা |
১. ঠিক শব্দটি বেছে নিয়ে বাক্যটি আবার লেখো
১.১ জোনাকি এক ধরনের _____ (পাখি / মাছ / পোকা / খেলনা)।
উত্তর: জোনাকি এক ধরনের পোকা।
১.২ ‘মোড়’ বলতে বোঝানো হয় _____ (গোল / বাঁক / যোগ / চওড়া)।
উত্তর: ‘মোড়’ বলতে বোঝানো হয় বাঁক।
১.৩ ‘দরবার’ শব্দটির অর্থ হলো _____ (দরজা / সভা / দরগা / দোকান)।
উত্তর: ‘দরবার’ শব্দটির অর্থ হলো সভা।
১.৪ প্রকৃতির সুন্দর চেহারা যে অংশটিতে ফুটে উঠেছে সেটি হলো — _____ (কাব্য হবে / মোড় ফিরেছি / কালো জল / ডাবের মতো চাঁদ উঠেছে)।
উত্তর: প্রকৃতির সুন্দর চেহারা যে অংশটিতে ফুটে উঠেছে সেটি হলো — ডাবের মতো চাঁদ উঠেছে।
২. ‘ক’ স্তম্ভের সঙ্গে ‘খ’ স্তম্ভ মেলাও
| ‘ক’ স্তম্ভ |
‘খ’ স্তম্ভ (অর্থ / সমার্থক) |
| চাঁদ |
শশী |
| ঠান্ডা |
শীতল |
| পাহাড় |
গিরি |
| জোনাকি |
খদ্যোত |
| দিঘি |
জলাশয় / দীর্ঘিকা |
| জল |
নীর |
| ফুল |
পুষ্প |
৩. শব্দঝুড়ি থেকে বিশেষ্য ও বিশেষণ আলাদা করে লেখো
ঠান্ডা, চাঁদ, লাল, শহর, দরগাতলা, জোনাকি, মস্ত, গোলগাল, উটকো, কলরব
চাঁদ
শহর
দরগাতলা
জোনাকি
কলরব
ঠান্ডা
লাল
মস্ত
গোলগাল
উটকো
৪. বর্ণ প্রয়োগ ও অর্থভেদ
৪.১ ‘থরথর’ শব্দে ‘র’ বর্ণটি দু-বার রয়েছে। এরকম ‘ল’ বর্ণটি দু-বার আছে এমন পাঁচটি শব্দ লেখো:
উত্তর: ঝলমল, ছলছল, খলখল, কলকল, ঢলঢল (যেমন—টলটল)।
৪.২ ‘কাছে’ শব্দটিকে ‘নিকটে’ এবং ‘দেখা করা’ এই দুই অর্থে ব্যবহার করে বাক্য রচনা করো:
নিকটে: আমাদের বিদ্যালয়ের খুব কাছেই একটি মনোরম খেলার মাঠ অবস্থিত।
দেখা করা: ছুটির আবেদন নিয়ে আজ আমি প্রধান শিক্ষকমহাশয়ের কাছে যাব।
৫. ক্রিয়ার নীচে দাগ দাও
৫ বাক্যগুলি থেকে ক্রিয়াপদ চিহ্নিত করো:
৫.১ ছিটকিনিটা আস্তে খুলে পেরিয়ে গেলাম ঘর।
৫.২ নারকোলের ঐ লম্বা মাথায় হঠাৎ দেখি কাল।
৫.৩ এসো, আমরা সবাই না ঘুমানোর দল।
৫.৪ কাব্য হবে, কাব্য কবে — জুড়ল কলরব। (এখানে ‘কবে’ মানে বলবে)
৫.৫ পাখির কাছে, ফুলের কাছে মনের কথা কই।
৬. অর্থ লেখো
| শব্দ |
অর্থ |
| ঝিমধরা |
অবসন্ন / তন্দ্রাচ্ছন্ন বা নিস্তব্ধ ভাব |
| উটকো |
অপ্রত্যাশিত / অপরিচিত বা অনাহূত |
| দরবার |
সভা, বৈঠক বা সম্মেলন |
| কলরব |
কোলাহল বা সমবেত মধুর গুঞ্জন |
| মিনার |
উঁচু গম্বুজযুক্ত স্থাপত্য বা সৌধচূড়া |
৭. সমার্থক শব্দ লেখো
৭ প্রতিটি শব্দের প্রতিশব্দ:
চাঁদ: চন্দ্র, শশী, ইন্দু, সুধাকর।
পাখি: পক্ষী, খেচর, বিহগ, বিহঙ্গম।
ফুল: পুষ্প, কুসুম, প্রসূন।
গাছ: বৃক্ষ, তরু, পাদপ, মহীরুহ।
জোনাকি: খদ্যোত, জ্যুতিরিঙ্গণ।
৮. বিপরীতার্থক শব্দ লেখো
| মূল শব্দ |
বিপরীত শব্দ |
মূল শব্দ |
বিপরীত শব্দ |
| লম্বা |
বেঁটে / খাটো |
হেসে |
কেঁদে |
| ঠান্ডা |
গরম / উষ্ণ |
পদ্য |
গদ্য |
| মস্ত |
ক্ষুদ্র / ছোটো |
— |
— |
৯. কবি পরিচিতি (আল মাহমুদ)
৯.১ কবি আল মাহমুদ কোন দেশের মানুষ?
উত্তর: কবি আল মাহমুদ প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশ-এর একজন খ্যাতনামা আধুনিক কবি।
৯.২ তিনি কোন বিখ্যাত আন্দোলনে শামিল হয়েছিলেন?
উত্তর: তিনি ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন বা ভাষা-বিদ্রোহে সক্রিয়ভাবে শামিল হয়েছিলেন।
৯.৩ তাঁর লেখা একটি বিখ্যাত বইয়ের নাম লেখো।
উত্তর: তাঁর রচিত কালজয়ী কাব্যগ্রন্থ হলো ‘সোনালি কাবিন’ (এছাড়াও ‘লোক-লোকান্তর’, ‘কালের কলম’)।
১০. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো
১০.১ কবি ঘর থেকে বেরিয়ে পড়েছিলেন কেন?
উত্তর: গভীর রাতে নারকেল গাছের লম্বা মাথায় ডাবের মতো সুন্দর ও ঠান্ডা গোলগাল চাঁদ উঠতে দেখে কবি মুগ্ধ হয়ে যান। সেই মায়াবী জ্যোৎস্নালোকিত রূপ উপভোগ করতেই কবি ঘর থেকে বেরিয়ে পড়েন।
১০.২ কবি কেন ছিটকিনিটি আস্তে খুলে ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন?
উত্তর: রাতের নিস্তব্ধতায় ছিটকিনি খোলার সামান্য শব্দেও যেন ঘুমন্ত বাড়ির লোকদের ঘুম না ভেঙে যায়, সেই সতর্কতায় কবি অত্যন্ত সন্তর্পণে আস্তে আস্তে ছিটকিনিটি খুলে বাইরে এলেন।
১০.৩ বাইরে বেরিয়ে এসে কবি শহরকে কেমন অবস্থায় দেখলেন?
উত্তর: বাইরে এসে কবি দেখলেন মস্ত বড়ো শহরটি যেন সম্পূর্ণ ঝিম ধরে নিঝুম হয়ে আছে এবং রাতের প্রবল ঠান্ডায় থরথর করে কাঁপছে।
১০.৪ শহরে নেই, অথচ কবির মনে হল তিনি দেখছেন—এমন কোন কোন জিনিসের কথা কবিতায় রয়েছে?
উত্তর: জনবহুল শহরে সচরাচর পাহাড় বা লালদিঘির মতো প্রাকৃতিক জলাশয় থাকে না। কিন্তু কবির কল্পনায় শহরের এক কোণে একটি উটকো পাহাড় এবং জোনাকিদের সভা বসা লালদিঘি দেখতে পাওয়ার কথা কবিতায় বলা হয়েছে।
১০.৫ সেই রাতে জেগে থাকার দলে কারা কারা ছিল? তারা কবির কাছে কী আবদার জানিয়েছিল?
উত্তর: সেই রাতে জেগে থাকার দলে ছিল লালদিঘির জোনাকিরা, দিঘির কালো জল, আর চারপাশের ফুল ও পাখিরা। তারা সমবেতভাবে কবির কাছে পকেট থেকে ছড়ার বই বের করে নতুন নতুন পদ্য ও কাব্য শোনানোর আবদার জানিয়েছিল।
১০.৬ তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে কবি কী করলেন?
উত্তর: প্রকৃতি ও নিশাচর প্রাণীদের সাদর আহ্বানে সাড়া দিয়ে কবি নিজের পকেট থেকে ছড়ার বই বের করলেন এবং ফুলের কাছে ও পাখির কাছে মনের সমস্ত অনুভূতি কবিতার ছন্দে প্রকাশ করলেন।
১০.৭ রক্তজবার ঝোপের কাছে কাব্যের যে আসর বসেছিল, সেই পরিবেশটি কেমন তা লেখো।
উত্তর: লালদিঘির পাড়ে রক্তজবার ঝোপের পাশে বসেছিল এক অপূর্ব কাব্যের জলসা। সেখানে জোনাকিরা আলোর মেলা বসিয়েছিল আর দিঘির কালো জল কবিকে বলেছিল— “পকেট থেকে পদ্য লেখার ভাঁজ খোলো।”
দিঘির এই কথায় রাতের ফুল ও পাখিরা আনন্দে হেসে উঠে কলরব জুড়ে দিয়েছিল। চারপাশের সেই পরিবেশটি হয়ে উঠেছিল নির্মল, শান্ত, আলো-আঁধারিতে ঘেরা এবং প্রকৃতির অকৃত্রিম আনন্দে ভরপুর।
১০.৮ ‘চাঁদ’ কে নিয়ে তোমার পড়া বা শোনা একটি জনপ্রিয় ছড়া লেখো।
“আয় আয় চাঁদ মামা টিপ দিয়ে যা,
চাঁদের কপালে চাঁদ টিপ দিয়ে যা।
ধান ভানলে কুঁড়ো দেব,
মাছ কাটলে মুড়ো দেব,
কালো গোরুর দুধ দেব,
দুধ খাওয়ার বাটি দেব,
চাঁদের কপালে চাঁদ টিপ দিয়ে যা।”