✨ WBBSE Class 5
📖 পাতাবাহার বাংলা
📌 ১৮শ পাঠ সম্পূর্ণ নোটস
চল্ চল্ চল্ — কাজী নজরুল ইসলাম : সম্পূর্ণ ভাবার্থ ও প্রশ্নোত্তর
বিষয়
বাংলা সাহিত্য
অধ্যায়
চল্ চল্ চল্ (রণসংগীত)
কবি
কাজী নজরুল ইসলাম
কাব্যগ্রন্থ
সন্ধ্যা
📖 কবিতার পরিচিতি ও সারমর্ম (Overview)
মূলভাব: ‘চল্ চল্ চল্’ বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের রচিত বাংলা সাহিত্যের এক অবিসংবাদিত ও কালজয়ী রণসংগীত বা মার্চিং সং (Marching Song)। পরাধীন ভারতবর্ষের ঘুমন্ত ও নির্জীব তরুণ সমাজকে স্বাধীনতার মহান মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ করতে এবং সমস্ত ভীরুতা ঝেড়ে ফেলে লড়াইয়ের ময়দানে নামার আহ্বান জানিয়ে এই গানটি রচিত হয়েছিল।
কবিতায় তারুণ্যের অদম্য প্রাণশক্তি, দুর্গম বাধা বিচূর্ণ করার স্পৃহা এবং নতুন সমাজ গঠনের বলিষ্ঠ প্রত্যয় ব্যক্ত হয়েছে। (বিঃদ্রঃ— পাঠ্যবইতে এই অধ্যায়ের কোনো ‘হাতে কলমে’ প্রশ্ন-উত্তর নেই, তাই শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতির জন্য নিচে প্রতিটি অংশের অর্থ, শব্দার্থ ও প্রয়োজনীয় প্রশ্নোত্তর বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।)
📝 কবিতার বিস্তারিত বিষয়বস্তু ও ব্যাখ্যা (Detailed Analysis)
১ম পর্ব তরুণদের প্রতি এগিয়ে চলার উদাত্ত আহ্বান (“উর্দ্ধ-গগনে বাজে মাদল…”)
কবি প্রত্যক্ষ করেছেন ওপরের আকাশে রণবাদ্য বা মাদল বেজে উঠেছে এবং নীচে পৃথিবী উত্তেজনায় চঞ্চল ও উতলা হয়ে উঠেছে। সকালের রক্তিম সূর্যের মতো নবীন ও উদ্যমী তরুণ দলকে সমস্ত ক্লান্তি আর জড়তা দূরে সরিয়ে কেবল সামনের দিকে এগিয়ে চলার জন্য কবি বারবার নির্দেশ দিয়েছেন।
২য় পর্ব বাধা চূর্ণ করে নতুন সকাল আনার অঙ্গীকার (“ঊষার দুয়ারে হানি আঘাত…”)
তরুণ বিপ্লবীরা অপার শক্তির প্রতীক। তারা ভোরের বন্ধ দরজায় প্রচণ্ড আঘাত হেনে পরাধীনতার অন্ধকার দূর করবে এবং নতুন রক্তিম সূর্যোদয় অর্থাৎ মুক্তির রাঙা প্রভাত ছিনিয়ে আনবে। যাত্রাপথে বিন্ধ্যাচল পর্বতের মতো হিমালয়প্রমাণ বাধা আসুক কিংবা ঘন অমানিশা আসুক—সবকিছুকে ভেঙে চুরমার করার সাহস তরুণদের রক্তে বহমান।
৩য় পর্ব শ্মশান সজীব করা ও আগল ভাঙার ডাক (“নব নবীনের গাহিয়া গান…”)
নবীন প্রাণের গান গেয়ে তরুণ সমাজ এই মৃতপ্রায়, পরাধীন সমাজ বা মহাশ্মশানকে আবার নবপ্রাণে সজীব করে তুলবে। তাদের বলিষ্ঠ বাহুতে রয়েছে অজেয় শক্তি। জীর্ণ প্রাচীন বন্ধন ও শৃঙ্খলের আগল ভেঙে তারা নতুন যুগের প্রবেশদ্বারে পৌঁছাবে এবং জীবনের জয়গান ঘোষণা করবে।
📚 গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ (Word Meanings)
| শব্দ |
অর্থ |
শব্দ |
অর্থ |
| উর্দ্ধ-গগন |
ওপরের আকাশ / অনন্ত আকাশ |
তিমির |
গাঢ় অন্ধকার বা অমানিশা |
| মাদল |
এক প্রকার ঐতিহ্যবাহী রণবাদ্য / ঢোল |
বিন্ধ্যাচল |
বিন্ধ্য পর্বত (কঠিন বাধার রূপক) |
| উতলা |
চঞ্চল, ব্যাকুল বা আলোড়িত |
মহাশ্মশান |
বিশাল শ্মশান / নির্জীব পরাধীন সমাজ |
| ধরণী-তল |
পৃথিবীপৃষ্ঠ বা মাটির বুক |
নৌ-জোয়ান |
নবীন যুবক / তেজস্বী তরুণ সমাজ |
| অরুণ |
ভোরের উদীয়মান লাল সূর্য |
তোরণ |
প্রধান ফটক বা সিংহদ্বার |
| প্রাত |
ভোরবেলা বা প্রভাতকাল |
আগল |
দরজার খিল, বন্ধন বা প্রতিবন্ধকতা |
| হানি |
আঘাত করে বা হেনে দিয়ে |
টুটাব |
ভাঙব, চূর্ণ করব বা বিনাশ করব |
✍️ কবি পরিচিতি (বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম)
কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯ – ১৯৭৬)
বাংলা সাহিত্যের যুগান্তকারী ও অবিসংবাদিত ‘বিদ্রোহী কবি’। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে তাঁর রচিত অগ্নগর্ভ কবিতা ও গান স্বাধীনতা সংগ্রামীদের বুকে বিপ্লবের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিল। তিনি সাম্য, মৈত্রী ও মানবতার অমর কণ্ঠস্বর।
আমাদের পাঠ্য ‘চল্ চল্ চল্’ গানটি কবির বিখ্যাত ‘সন্ধ্যা’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। ১৯২৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য সমাজের বার্ষিক অধিবেশনে এই গানটি রচিত ও পরিবেশিত হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৭২ সালের ১৩ই জানুয়ারি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এই গানটিকে তাদের ‘জাতীয় সেনা সংগীত’ (National Military Song) হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
❓ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর ও জিজ্ঞাস্য
১ ‘চল্ চল্ চল্’ গানটি কার রচনা এবং এটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত?
উত্তর: গানটি বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর কালজয়ী রচনা। এটি তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ ‘সন্ধ্যা’ থেকে সংকলন করা হয়েছে।
২ কবি কাদের ‘চল্ চল্ চল্’ বলে আহ্বান জানিয়েছেন এবং কেন?
উত্তর: কবি ‘অরুণ প্রাতের তরুণ দল’ অর্থাৎ দেশের নবীন, তেজস্বী ও অমিত শক্তিশালী যুবসমাজকে আহ্বান জানিয়েছেন। পরাধীনতার গভীর অন্ধকার ঘুচিয়ে স্বাধীনতার নতুন সকাল আনার জন্য এবং সমাজ থেকে সমস্ত ভীরুতা দূর করার লক্ষ্যে তিনি এই উদাত্ত ডাক দিয়েছেন।
৩ “সজীব করিব মহাশ্মশান”—বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: দীর্ঘ পরাধীনতা ও শোষণের ফলে ভারতবর্ষের সমাজ তখন শ্মশানের মতো নিস্তেজ, প্রাণহীন ও স্থবির হয়ে পড়েছিল। তরুণদের বুকের তাজা রক্ত, নবীন চেতনা ও অসীম সাহস দিয়ে সেই মৃতপ্রায় দেশকে আবার সজীব ও প্রাণবন্ত করে তোলার অঙ্গীকারই এখানে ব্যক্ত হয়েছে।
৪ গানটিতে ‘বিন্ধ্যাচল’ এবং ‘তিমির’ শব্দদুটি কী অর্থে প্রযুক্ত হয়েছে?
বিন্ধ্যাচল: বিন্ধ্য পর্বত যেমন সুউচ্চ প্রাচীরের মতো পথ আগলে দাঁড়ায়, তেমনি দেশোদ্ধারের পথে আসা বিশাল কঠিন বাধার প্রতীক হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়েছে।
তিমির: তিমির অর্থাৎ অন্ধকার, যা এখানে পরাধীনতার গ্লানি, কুসংস্কার ও অজ্ঞতার গভীর অন্ধকারকে নির্দেশ করছে।
৫ ‘চল্ চল্ চল্’ গানটি কোন দেশের ‘জাতীয় সেনা সংগীত’ হিসেবে স্বীকৃত?
উত্তর: গানটি স্বাধীন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ-এর রাষ্ট্রীয় ‘জাতীয় সেনা সংগীত’ বা মার্চিং সং হিসেবে মর্যাদা প্রাপ্ত।