বোকা কুমিরের কথা (Boka Kumirer Kotha) Class 5 Bengali Question Answer Notes PDF

বোকা কুমিরের কথা (Boka Kumirer Kotha) Class 5 Bengali Question Answer

✨ WBBSE Class 5
📖 পাতাবাহার বাংলা
📌 ১৭শ পাঠ সম্পূর্ণ নোটস

বোকা কুমিরের কথা — উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী : সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর ও সমাধান

বিষয়
বাংলা সাহিত্য
অধ্যায়
বোকা কুমিরের কথা (গল্প)
লেখক
উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
পাঠ্যপুস্তক
পাতাবাহার

📖 গল্পের পরিচিতি ও সারমর্ম

মূলভাব: শিশুসাহিত্যিক উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর রচিত ‘বোকা কুমিরের কথা’ একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও হাস্যরসাত্মক নীতিকাহিনী। গল্পে এক ধূর্ত শিয়াল ও নির্বোধ কুমিরের যৌথ কৃষিকাজের মজার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরা হয়েছে।

চাষবাসের কোনো সাধারণ জ্ঞান না থাকায় কুমির বারবার শিয়ালকে ঠকাতে গিয়ে নিজেই নিজের বোকামির ফাঁদে পড়েছে। আলু চাষে আগা নিয়ে সে পেল কেবল মূল্যহীন পাতা, ধান চাষে গোড়া নিয়ে পেল শুধু শুকনো খড় আর আখ চাষে আবার আগা নিয়ে পেল নোনতা পাতা। নিজের নির্বুদ্ধিতার কারণে প্রতিবার ঠকে গিয়ে কুমির অবশেষে শিয়ালের সাথে চিরদিনের জন্য চাষ করাই বন্ধ করে দেয়।

📚 গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ (Word Meanings)
শব্দ অর্থ শব্দ অর্থ
আগা গাছের ওপরের বা শীর্ষ অংশ নোনতা লবণাক্ত / নুনের মতো স্বাদযুক্ত
গোড়া গাছের শিকড় বা তলদেশের অংশ বড্ড খুব, অত্যন্ত বা অত্যধিক
খড় বিচালি / ধানগাছের শুকনো ডাঁটা ইক্ষু আখ গাছ বা মিষ্টি রসের দণ্ড
১. নিজের ভাষায় উত্তর দাও
১.১ তোমার জানা কয়েকটি উভচর প্রাণীর নাম লেখো।
উত্তর: আমার জানা কয়েকটি উভচর প্রাণী হলো— কুনোব্যাঙ, সোনা ব্যাঙ এবং স্যালামান্ডার

১.২ তোমার জানা কয়েকটি সরীসৃপ প্রাণীর নাম লেখো।
উত্তর: কয়েকটি প্রধান সরীসৃপ প্রাণী হলো— সাপ, টিকটিকি, কুমির, গিরগিটি এবং কচ্ছপ

১.৩ ছোটোদের পশুপাখির গল্পে সবচেয়ে চালাক প্রাণী বলতে কাকে বুঝি?
উত্তর: ছোটোদের রূপকথা ও নীতিকথায় সবচেয়ে চালাক বা ধূর্ত প্রাণী বলতে আমরা শিয়াল-কে বুঝি।

১.৪ মাটির নীচে হয় এমন কয়েকটি ফসলের নাম লেখো।
উত্তর: মাটির নীচে উৎপন্ন হওয়া প্রধান ফসল হলো— আলু, পেঁয়াজ, গাজর, মূলো, আদা এবং ওল

১.৫ ধানগাছ থেকে আমরা কী কী পাই?
উত্তর: ধানগাছ থেকে আমরা খাদ্য হিসেবে ধান (চাল) এবং গবাদি পশুর খাদ্য ও ঘরের ছাউনি তৈরিতে ব্যবহৃত খড় বা বিচালি পাই।

১.৬ কুমির ও শিয়ালকে নিয়ে অন্য একটি গল্প লেখো (পাঁচটি বাক্যে):
১. একবার এক বোকা কুমির তার সাতটি ছানাকে লেখাপড়া শেখানোর জন্য শিয়াল পণ্ডিতের কাছে পাঠায়।
২. শিয়াল কুমিরের ছানাদের যত্ন করে রাখার ভান করে নিজের ডেরায় নিয়ে যায়।
৩. কিন্তু লোভী শিয়াল প্রতিদিন কুমির ছানাদের শিক্ষা দেওয়ার বদলে একটি করে ছানা খেয়ে ফেলতে থাকে।
৪. কুমির যখনই ছানাদের দেখতে চাইত, ধূর্ত শিয়াল চালাকি করে একটি ছানাকেই বারবার উঁচু করে দেখিয়ে তাকে বোকা বানাত।
৫. সবশেষে সব ছানা খাওয়া শেষ হলে শিয়াল চুপিচুপি বনের গভীরে পালিয়ে গিয়ে আত্মরক্ষা করে।

২. ‘ক’ স্তম্ভের সঙ্গে ‘খ’ স্তম্ভ মেলাও
‘ক’ স্তম্ভ ‘খ’ স্তম্ভ (সম্পর্কিত উপাদান)
কুমির নদী
শিয়াল জঙ্গল
আলু খেত
আখ চিনি
খড় গরু
৩. গল্পের ঘটনাক্রম সাজিয়ে লেখো
গল্পের বিষয়বস্তু অনুযায়ী সঠিক ঘটনাক্রম:
১. কুমির আর শিয়াল মিলে চাষ করতে গেল …আলুর চাষ। (৩.২)
২. কুমির শিয়ালকে ঠকাবার জন্য বললে—গাছের আগার দিক কিন্তু আমার, আর গোড়ার দিক তোমার। (৩.১)
৩. তারপরের বার হলো ধানের চাষ। কুমির গোড়াগুলো নিয়ে বুঝল সে খুব ঠকেছে। (৩.৪)
৪. সেবার হলো আখের চাষ। কুমির আগাগুলো নিয়ে চিবিয়ে দেখল ভীষণ নোনতা। (৩.৩)
৫. কুমির শিয়ালকে বলল, না ভাই, তোমার সঙ্গে আর আমি চাষ করতে যাব না, তুমি বড্ড ঠকাও। (৩.৫)

৪. উপযুক্ত শব্দ বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো
পাঠ্য অংশ অনুযায়ী শূন্যস্থান পূরণ:
৪.১ কুমির আর শিয়াল মিলে চাষ করতে গেল।
৪.২ সে ভাবলে বুঝি আলু তার গাছের ফল
৪.৩ শিয়াল সে ধানসুদ্ধ গাছের আগা কেটে নিয়ে গেল।
৪.৪ সেবার হলো আখের চাষ।
৪.৫ শিয়াল মাটি খুঁড়ে সব আলু তুলে নিয়ে গেছে

৫. শব্দঝুড়ি থেকে একই অর্থের শব্দ মেলাও
মূল শব্দ সমার্থক শব্দ (শব্দঝুড়ি থেকে) মূল শব্দ সমার্থক শব্দ (শব্দঝুড়ি থেকে)
চাষ কৃষি আগা অগ্রভাগ
আখ ইক্ষু মাটি মৃত্তিকা
৬. বাক্য সম্পূর্ণ করো
অর্থপূর্ণ বাক্য সমাপ্তিকরণ:
৬.১ ‘বোকা কুমিরের কথা’ গল্পটি পড়ে কুমিরটিকে আমার মনে হয়েছে, সে ভীষণ বোকা এবং চাষবাস সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ
৬.২ গল্পের শিয়ালটি আসলে খুব চালাক ও চরম ধূর্ত প্রকৃতির
৬.৩ কুমির গল্পে মোট তিন বার ঠকেছে। প্রথমবার সে ঠকে গেছে, কেননা সে জানত না যে আলু মাটির নীচে হয়। দ্বিতীয়বার তার ঠকে যাওয়ার কারণ হলো সে ধানের গোড়া নিয়েছিল, আর আগায় ধান ছিল। তারপরের বার আখের আগা অর্থাৎ পাতা খেতে গিয়ে না জানার জন্য সে ঠকে গেছে।
৬.৪ শিয়াল বারবার লাভবান হয়েছে, কারণ সে কুমিরের বোকামির সুযোগ নিয়ে নিজের বুদ্ধির জোরে ফসলের আসল অংশটি নিজের ভাগে নিয়ে নিয়েছে

৭. পদের শ্রেণিবিভাগ নির্ণয় করো
প্রদত্ত বাক্য ও চিহ্নিত অংশ পদের শ্রেণিবিভাগ
৭.১ কুমির আর শিয়াল মিলে চাষ করতে গেল। বিশেষ্য পদ (Noun)
৭.২ সে ভাবলে বুঝি আলু তার গাছের ফল। সর্বনাম পদ (Pronoun)
৭.৩ আচ্ছা আসছে বার দেখব ক্রিয়া পদ (Verb)
৭.৪ ভেবেছে, মাটি খুঁড়ে সব ধান বার করে নেবে ধান: বিশেষ্য, নেবে: ক্রিয়া
৭.৫ এবার আমাকে গোড়ার দিক দিতে হবে। সর্বনাম পদ (Pronoun)
৮. সঠিক বাক্যে (✓) ও ভুল বাক্যে (✗) চিহ্ন দাও
বিবৃতি মূল্যায়ন
৮.১ গল্পের কুমিরটি অত্যন্ত চালাক-চতুর ছিল। ✗ (ভুল)
৮.২ কুমিরটি চেয়েছিল শিয়ালকে সে ঠকাবে। ✓ (সঠিক)
৮.৩ আলুচাষে গোড়ার দিক পাওয়ায় শিয়াল ঠকে গেল। ✗ (ভুল)
৮.৪ ধানচাষের বেলায় কুমির পেল আগার দিক। ✗ (ভুল)
৮.৫ কুমির আখের গাছগুলো পেয়ে ঘরে বয়ে নিয়ে গিয়ে মজা করে খেতে লাগল। ✗ (ভুল)
৯. বাক্য রচনা করো
অর্থপূর্ণ বাক্যে প্রয়োগ:
আগা: কালবৈশাখীর প্রবল ঝড়ে আমাদের বাগানের নারকেল গাছটার আগা ভেঙে গেছে।
গোড়া: সার ও নিয়মিত জল দেওয়ায় বটগাছটির গোড়া থেকে নতুন ডালপালা গজাচ্ছে।
চাষ: বর্ষার নতুন জল পেয়ে গ্রামের কৃষকেরা মাঠে ধান চাষ করতে নেমে পড়েছেন।
আখ: গরমের দিনে বরফ দেওয়া মিষ্টি আখ-এর রস পান করলে শরীর জুড়িয়ে যায়।
নোনতা: প্রচুর লবণ মিশ্রিত থাকার কারণে সমুদ্রের জল অত্যন্ত নোনতা স্বাদের হয়।

১০. বিপরীতার্থক শব্দ লেখো
মূল শব্দ বিপরীত শব্দ মূল শব্দ বিপরীত শব্দ
লাভ ক্ষতি / লোকসান কাজ অকাজ / বিশ্রাম
মিষ্টি টক / তেতো মজা সাজা / কষ্ট
নীচে ওপরে / উপরে
১১. লেখক পরিচিতি (উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী : ১৮৬৩ – ১৯১৫)
১১.১ উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর লেখা দুটি বিখ্যাত বইয়ের নাম লেখো।
উত্তর: তাঁর লেখা দুটি কালজয়ী বই হলো— ‘টুনটুনির বই’ এবং ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’ (এছাড়াও ‘ছেলেদের রামায়ণ’)।

১১.২ তিনি ছোটোদের জন্য কোন বিখ্যাত পত্রিকা প্রকাশ করতেন?
উত্তর: তিনি ছোটোদের জন্য ১৯১৩ সালে বাংলা সাহিত্যের অমর শিশু পত্রিকা ‘সন্দেশ’ প্রকাশ করেন।

১১.৩ তাঁর সন্তানদের মধ্যে প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক হিসেবে কারা পরিচিত?
উত্তর: তাঁর সন্তানদের মধ্যে সুকুমার রায়, পুণ্যলতা চক্রবর্তী, সুখলতা রাও এবং সুবিনয় রায় শিশুসাহিত্যিক হিসেবে অত্যন্ত খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

১২. বিশদ ও ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর
১২.১ & ১২.২ গল্পে কারা চাষ করতে গেল এবং কীসের কীসের চাষ তারা করেছিল?
চাষ করতে গেল: একটি বোকা কুমির এবং একটি চতুর শিয়াল মিলে একসঙ্গে চাষ করতে গিয়েছিল।
ফসলসমূহ: তারা ক্রমান্বয়ে প্রথমে আলু, দ্বিতীয়বারে ধান এবং তৃতীয়বারে আখ-এর চাষ করেছিল।

১২.৩ চাষে কার লাভ এবং কার ক্ষতি হয়েছিল?
উত্তর: বুদ্ধির জোরে প্রতিবারই চালাক শিয়ালের লাভ হয়েছিল এবং নিজের নির্বুদ্ধিতার কারণে প্রতিবারই বোকা কুমিরের চরম ক্ষতি হয়েছিল

১২.৪ শিয়ালকে ঠকাতে আখচাষের সময় কুমির কী ফন্দি এঁটেছিল?
উত্তর: আখচাষের সময় কুমির শিয়ালকে ঠকানোর জন্য আগেভাগেই গোঁয়ার্তুমি করে শর্ত দেয় যে, সে গাছের আগার দিক নেবে এবং শিয়ালকে গোড়ার দিক দেবে। কারণ নির্বোধ কুমির ভেবেছিল আখের সুস্বাদু ফল বুঝি গাছের আগাতেই ফলে।

১২.৫ কুমির যে নিজের নির্বুদ্ধিতার জন্যই ঠকেছিল—তার সপক্ষে পাঠ্য থেকে ৩টি বাক্য উদ্ধৃত করো:
১. “বোকা কুমির সে কথা জানত না। সে ভাবলে বুঝি আলু তার গাছের ফল।”
২. “কুমির তো এবারে ভারি খুশি হয়ে আছে। ভেবেছে, মাটি খুঁড়ে সব ধান বার করে নেবে।”
৩. “কুমির তো আগেই বলেছে, এবার আর সে আগা না নিয়ে ছাড়বে না।”

সম্পূর্ণ নোটসের প্রিন্টেবল PDF পেতে চান?

ক্লিক করলেই প্রথম পেজে আকর্ষণীয় কভার পেজসহ সম্পূর্ণ নোটসের অফলাইন PDF প্রিন্ট রেডি হয়ে যাবে।

❓ সচরাচর জিজ্ঞাস্য (FAQ)
Q1. ‘বোকা কুমিরের কথা’ গল্পটির রচয়িতা কে?
গল্পটি প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী-র লেখা।

Q2. কুমির ও শিয়াল পর পর কী কী চাষ করেছিল?
তারা পর পর তিনবার চাষ করেছিল—প্রথমে আলুর চাষ, তারপর ধানের চাষ এবং সবশেষে আখের চাষ।

Q3. কুমির কেন বারবার ঠকে গিয়েছিল?
চাষবাস সম্পর্কে কুমিরের কোনো জ্ঞান ও সাধারণ বুদ্ধি ছিল না; ফসলের কোন অংশটি আসল তা না জেনেই শিয়ালকে ঠকাতে গিয়ে সে নিজেই নিজের বোকামির জন্য বারবার ঠকে যায়।


Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top