বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর Class 5 Bengali Question Answer Notes PDF

বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর Class 5 Bengali Question Answer Notes PDF

✨ WBBSE Class 5
📖 পাতাবাহার বাংলা
📌 ১৬শ পাঠ সম্পূর্ণ নোটস

বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর : সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর ও ব্যাকরণ সমাধান

বিষয়
বাংলা সাহিত্য
অধ্যায়
বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর
কবি
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
পাঠ্যপুস্তক
পাতাবাহার

📖 কবিতার পরিচিতি ও সারমর্ম

মূলভাব: ‘বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর’ কবিতায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এক অবিশ্রান্ত বাদলা দিনে তাঁর শৈশবের স্মৃতিচারণা করেছেন। আকাশে ঘন কালো মেঘের আনাগোনা, মেঘের গুরুগুরু গর্জন এবং অবিরাম টাপুর টুপুর বৃষ্টির শব্দে নদীর এপার-ওপার এক মায়াবী রূপ ধারণ করে।

বৃষ্টির এই স্নিগ্ধ ধারায় কবির মনে ভেসে ওঠে মায়ের সেই হাসিমাখা মুখ, ঘরে শুয়ে দুরন্তপনা করা ছোট্ট খোকার রূপ এবং রূপকথার সুয়োরানি-দুয়োরানির কাহিনী। ছেলেবেলায় শোনা অমর লোকছড়া—“বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর, নদেয় এল বান”—কবির স্মৃতিকে ব্যাকুল করে তোলে এবং বৃষ্টিভেজা প্রকৃতি তাঁকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় মধুর শৈশবে।

📚 গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ (Word Meanings)
শব্দ অর্থ শব্দ অর্থ
ঝাপসা অস্পষ্ট বা আবছা পল মুহূর্ত বা ক্ষণকাল
মানিক চুনি বা বহুমূল্য রত্নবিশেষ দৌরাত্ম্য দুরন্তপনা, উপদ্রব বা দুষ্টুমি
বাদলা মেঘলা আকাশ বা বৃষ্টির দিন গুরুগুরু মেঘ ডাকার গম্ভীর গুরুগম্ভীর ধ্বনি
১. নিজের ভাষায় উত্তর দাও
১.১ কোন কোন বাংলা মাসে সাধারণত বৃষ্টি হয়?
উত্তর: সাধারণত বর্ষাকালের অন্তর্ভুক্ত আষাঢ় ও শ্রাবণ মাসে সর্বাধিক বৃষ্টিপাত হয়।

১.২ মেঘলা দিনে আকাশ ও তোমার চারপাশের প্রকৃতি কেমন রূপ ধারণ করে?
উত্তর: মেঘলা দিনে আকাশ ঘন কালো মেঘের চাদরে ঢাকা পড়ে এবং দিনের আলো নিভে এসে চারদিক অন্ধকার হয়ে যায়। মাঝে মাঝে বিদ্যুতের চমক দেখা যায় ও মেঘের গম্ভীর গর্জন শোনা যায়। চারপাশের গাছপালা ধুলোমুক্ত হয়ে সতেজ, সবুজ ও শান্ত রূপ ধারণ করে।

১.৩ বৃষ্টির সঙ্গে জড়িত তোমার জীবনের একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা লেখো:
অভিজ্ঞতা ভিত্তিক উত্তর: একবার স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে হঠাৎ মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়েছিল। সঙ্গে ছাতা না থাকায় আমি ও আমার বন্ধুরা মিলে একটি পুরোনো মন্দিরের নাটমন্দিরে আশ্রয় নিই। সেখানে দাঁড়িয়ে আমরা পরম আনন্দে বৃষ্টির ছড়া গেয়েছিলাম এবং খাতার পাতা ছিঁড়ে রঙিন কাগজের নৌকো বানিয়ে জমা জলে ভাসিয়ে দিয়েছিলাম। বৃষ্টিভেজা সেই আনন্দময় বিকেলটি আজও আমার হৃদয়ে উজ্জ্বল হয়ে আছে।

১.৪ পুকুরে, টিনের চালে ও গাছের পাতায় বৃষ্টি পড়ার শব্দ কেমন হয়?
পুকুরের জলে: টুপটাপ, ঝমঝম বা ছলাৎ-ছলাৎ শব্দ হয়।
টিনের চালে: টাপুর-টুপুর, ঝনঝন বা কড়কড় শব্দ তৈরি হয়।
গাছের পাতায়: পটর-পটর, টুপটুপ বা খসখস ধ্বনি শোনা যায়।

২. ‘ক’ স্তম্ভের সঙ্গে ‘খ’ স্তম্ভ মেলাও
‘ক’ স্তম্ভ ‘খ’ স্তম্ভ (সঠিক অর্থ / সমার্থক)
ঝাপসা অস্পষ্ট
ছেলেবেলা শৈশব
বিছানা শয্যা
দুরন্ত দামাল
বান বন্যা
৩. বেমানান শব্দের তলায় দাগ দাও
বেমানান শব্দ ও কারণ নির্দেশ:
৩.১ সূর্য, মেঘ, বৃষ্টি, আকাশ, বাড়িকারণ: বাড়ি মানুষের তৈরি বাসস্থান, বাকিগুলি প্রাকৃতিক উপাদান।
৩.২ ডোবে ডোবে, লোভে লোভে, পলে পলে, দেশে দেশে, টাপুর টুপুরকারণ: টাপুর টুপুর ধ্বন্যাত্মক শব্দ, বাকিগুলি শব্দের হুবহু দ্বিত্ব পুনরাবৃত্তি।
৩.৩ গাছপালা, মেঘ, হাওয়া, বাদল, মানিককারণ: মানিক একটি মূল্যবান রত্ন, বাকিগুলি প্রাকৃতিক বর্ষার অনুষঙ্গ।
৩.৪ মা, খোকা, দৌরাত্ম্য, হাসিমুখ, শিবঠাকুরকারণ: শিবঠাকুর পৌরাণিক দেবচরিত্র, বাকিগুলি গৃহকোণের বাস্তব শিশু ও মায়ের সম্পর্ক।
৩.৫ মেঘের খেলা, লুকোচুরি, টাপুর টুপুর, নদী, সুয়োরানিকারণ: সুয়োরানি রূপকথার চরিত্র, বাকিগুলি কবির প্রত্যক্ষ প্রাকৃতিক রূপ ও অনুভূতি।

৪. বিপরীতার্থক শব্দ কবিতা থেকে বেছে নিয়ে লেখো
প্রদত্ত শব্দ কবিতার বিপরীত শব্দ প্রদত্ত শব্দ কবিতার বিপরীত শব্দ
রাত দিন পুরোনো নতুন
বার্ধক্য ছেলেবেলা শান্ত দুরন্ত
খরা বান (বা বৃষ্টি)
৫. বিশেষ্য ও বিশেষণ আলাদা করে লেখো
একশো মানিক, দুরন্ত ছেলে, বাদলা হাওয়া, গুরুগুরু বুক, ঝাপসা গাছপালা
বিশেষ্য (Noun)
মানিক
ছেলে
হাওয়া
বুক
গাছপালা

বিশেষণ (Adjective)
একশো
দুরন্ত
বাদলা
গুরুগুরু
ঝাপসা

৬. ক্রিয়ার তলায় দাগ দাও
বাক্যগুলি থেকে ক্রিয়াপদ চিহ্নিত করো:
৬.১ কাঁসর ঘণ্টা বাজল ঠঙ্‌ ঠঙ্‌।
৬.২ কত খেলা পড়ে মনে।
৬.৩ শুনেছিলেম গান।
৬.৪ বিষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।
৬.৫ বাইরেতে মেঘ ডেকে ওঠে

৭. যুক্তবর্ণ গঠন : ‘ষ্ট’ এর প্রয়োগ
‘বৃষ্টি’ শব্দের মতো ‘ষ্ট’ যুক্ত পাঁচটি শব্দ:
উত্তর: সৃষ্টি, দৃষ্টি, মিষ্টি, তুষ্ট, কৃষ্টি (এছাড়াও পুষ্ট, অষ্ট)।

৮ & ৯. শব্দ বিশ্লেষণ ও এলোমেলো বর্ণ সাজানো
৮-৯ যৌগিক শব্দ ও বর্ণ বিন্যাস:
শব্দ বিভাজন:
• গাছপালা = গাছ + পালা
• ছেলেবেলা = ছেলে + বেলা
• হাসিমুখ = হাসি + মুখ
• লেখাজোকা = লেখা + জোকা
সাজিয়ে শব্দ গঠন:
• লে ছে বে লা ➔ ছেলেবেলা
• রি কো চু লু ➔ লুকোচুরি

১০. কবিতা অনুযায়ী শূন্যস্থান পূরণ করো
১০ সঠিক চরণ নির্বাচন:
১০.১ আকাশ ঘিরে মেঘ জুটেছে
১০.২ বাদলা হাওয়ায় মনে পড়ে
১০.৩ মনে পড়ে ঘরটি আলো
১০.৪ ঘরেতে দুরন্ত ছেলে
১০.৫ বাইরে কেবল জলের শব্দ

১১. কবি পরিচিতি (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর : ১৮৬১ – ১৯৪১)
১১.১ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত সালে নোবেল পুরস্কার পান?
উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথম এশীয় হিসেবে ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

১১.২ কোন বইয়ের জন্য তিনি নোবেল পুরস্কার পান?
উত্তর: তিনি তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ‘গীতাঞ্জলি’-র ইংরেজি অনুবাদ ‘Song Offerings’-এর জন্য নোবেল পুরস্কার পান।

১১.৩ ‘বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর’ কবিতাটি তাঁর কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?
উত্তর: কবিতাটি বিশ্বকবির বিখ্যাত শিশুতোষ কাব্যগ্রন্থ ‘শিশু’ থেকে সংকলিত হয়েছে।

১২. চিত্রাঙ্কন নির্দেশিকা
প্রশ্ন: মাঠে বা নদীতে বৃষ্টি পড়ছে এমন একটি ছবি আঁকো ও রং করো।
উত্তর: (ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের খাতায় রঙপেন্সিল দিয়ে আঁকবে—যেখানে মেঘাচ্ছন্ন আকাশ থেকে বারিধারা ঝরে পড়ছে, নদীর ওপারের গাছপালা ঝাপসা দেখাচ্ছে এবং বৃষ্টির ফোঁটায় টলটলে নদীর জলে গোল গোল ঢেউ সৃষ্টি হচ্ছে।)
১৩. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো
১৩.১ বৃষ্টির দিনে কবির মনে কোন গান ভেসে আসে?
উত্তর: বৃষ্টির দিনে কবির মনে শৈশবে শোনা চিরন্তন লোকছড়াটি ভেসে আসে— “বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর, নদেয় এল বান।”

১৩.২ বৃষ্টিতে নদীর এপার এবং ওপারের যে বর্ণনা কবি দিয়েছেন তা লেখো।
উত্তর: বৃষ্টির অবিশ্রান্ত ধারায় নদীর ওপারের সবুজ গাছপালা কুয়াশা ও মেঘের আড়ালে অস্পষ্ট ও ঝাপসা হয়ে গেছে। আর নদীর এপারের মেঘে যখন বিদ্যুতের ঝিলিক চমকে উঠছে, তখন কবির মনে হচ্ছে যেন মেঘের মাথায় একশো রত্নমানিক একসঙ্গে প্রজ্বলিত হয়ে উঠেছে।

১৩.৩ ‘সেদিনও কি এমনিতরো / মেঘের ঘটাখানা’—কোন দিনের কথা বলা হয়েছে এবং সেদিনের প্রকৃতি কেমন ছিল?
উত্তর: এখানে রূপকথায় বর্ণিত শিবঠাকুরের বিয়ের দিনের কথা বলা হয়েছে। কবির কল্পনায় সেদিনের আকাশেও ছিল আজকের মতোই ঘন মেঘের সমারোহ এবং মেঘের বুক চিরে ক্ষণে ক্ষণে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছিল।

১৩.৪ মেঘের খেলা কবির মনে কোন কোন স্মৃতি বয়ে আনে?
১. শৈশবে ঘরের কোণে মায়ের সাথে লুকোচুরি খেলার আনন্দময় মুহূর্ত।
২. অন্ধকার ঘরে মায়ের হাসিমুখের আলো এবং মায়ের কোলে বসে করা দুরন্তপনা।
৩. মায়ের মুখে শোনা রূপকথার সুয়োরানি ও দুয়োরানির রাজকীয় গল্প।
৪. শিবঠাকুরের তিন কন্যে বিয়ের পৌরাণিক কাহিনী এবং ছেলেবেলার চিরচেনা টাপুর টুপুর ছড়ার সুর।

সম্পূর্ণ নোটসের প্রিন্টেবল PDF পেতে চান?

ক্লিক করলেই প্রথম পেজে আকর্ষণীয় কভার পেজসহ সম্পূর্ণ নোটসের অফলাইন PDF প্রিন্ট রেডি হয়ে যাবে।

❓ সচরাচর জিজ্ঞাস্য (FAQ)
Q1. ‘বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর’ কবিতাটি কার লেখা এবং কোন বই থেকে সংকলিত?
কবিতাটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর লেখা এবং এটি তাঁর ‘শিশু’ কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।

Q2. বৃষ্টির দিনে কবির মনে কোন ছড়াটি ফিরে আসে?
কবির মনে লোকমুখে প্রচলিত বিখ্যাত ছড়া—“বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর, নদেয় এল বান” ফিরে আসে।

Q3. বৃষ্টির দিনে কবির কোন কোন শৈশব স্মৃতি মনে পড়ে?
লুকোচুরি খেলা, মায়ের হাসিমুখ, শিবঠাকুরের বিয়ে এবং সুয়োরানি-দুয়োরানির রূপকথার গল্প কবির স্মৃতিতে ভেসে ওঠে।


Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top