✨ WBBSE Class 5
📖 পাতাবাহার বাংলা
📌 ২৩শ পাঠ সম্পূর্ণ নোটস
শরৎ তোমার — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর : ভাবার্থ, শব্দার্থ ও পূর্ণাঙ্গ প্রশ্নোত্তর
বিষয়
বাংলা সাহিত্য
অধ্যায়
শরৎ তোমার (ঋতুসংগীত)
কবি ও সুরকার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
কাব্য সংকলন
গীতবিতান (প্রকৃতি পর্যায়)
📖 গানের পরিচিতি ও সারমর্ম (Overview)
মূলভাব: বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত ‘শরৎ তোমার’ বাংলা ঋতুসংগীতের ধারায় এক অপূর্ব ও অনবদ্য সৃষ্টি। বর্ষার ঘন মেঘ ও বাদল ধারা বিদায় নিলে শরৎকালে প্রকৃতি এক পরম পবিত্র, স্নিগ্ধ ও মোহময় সাজে সজ্জিত হয়ে ওঠে।
ভোরের উদীয়মান রবির আলো, ঘাসের ডগায় জমে থাকা মুক্তোদানার মতো শিশির এবং শিউলি ফুলের মিষ্টি সুবাসে শরতের আগমন ঘটে। কবির অপরূপ কল্পনায় শরৎ যেন এক জীবন্ত রূপবতী নারী, যার হাতের চুড়ির ঝিলিকে এবং চরণক্ষেপে সমগ্র বনভূমি ও মানবহৃদয় এক পরম আনন্দে আন্দোলিত হয়ে ওঠে। (বিঃদ্রঃ— পাঠ্যবইতে এই অধ্যায়ের কোনো ‘হাতে কলমে’ প্রশ্ন-উত্তর নেই, তাই শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য নিচে বিস্তারিত আলোচনা, শব্দার্থ ও সম্ভাব্য প্রশ্নোত্তর তুলে ধরা হলো।)
📝 কবিতার বিস্তারিত বিষয়বস্তু ও ব্যাখ্যা (Detailed Analysis)
১ম পর্ব ভোরের আলো ও শিশিরস্নাত শুভ্র রূপ (“শরৎ, তোমার অরুণ আলোর অঞ্জলি…”)
শরতের প্রাতঃকালে উদীয়মান সূর্যদেব যেন করজোড়ে তার সোনার আলোর অঞ্জলি নিবেদন করে। শরতের মোহময় আঙুলির কোমল স্পর্শে বনের সমস্ত পথ ও প্রান্তর আলোকিত হয়ে ওঠে। ভোরের স্নিগ্ধ শিশিরবিন্দুতে ধোয়া শরতের কেশদাম বা কুন্তল এবং চঞ্চল আঁচল যেন বনভূমির শ্যামল অঙ্গনে ছড়িয়ে পড়ে। প্রকৃতির এই শুভ্র পবিত্র রূপ দেখে সকালের হৃদয় আনন্দে চঞ্চল ও পুলকিত হয়ে ওঠে।
২য় পর্ব প্রকৃতির স্বর্ণোজ্জ্বল সাজ ও শিউলিবনের নৃত্য (“মানিক-গাঁথা ওই-যে তোমার কঙ্কণে…”)
সবুজ বনের আঙিনায় শরতের রূপের এমন অপূর্ব দীপ্তি ছড়ায়, যেন মনে হয় শরতের হাতে পরা বালা বা কঙ্কণে মহামূল্যবান রত্নমানিক গাঁথা রয়েছে। লতাপাতা ঘেরা কুঞ্জের ছায়াতলে যখন ভ্রমরের গুঞ্জনগীতি বেজে ওঠে, তখন প্রকৃতি নৃত্যের ছন্দে যেন ওড়না ওড়ায়। বাতাসের দোলায় সাদা-হলদে শিউলি ফুলের বনের হৃদয় আনন্দে উদ্বেলিত ও আন্দোলিত হয়ে ওঠে।
📚 গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ (Word Meanings)
| শব্দ |
অর্থ |
শব্দ |
অর্থ |
| শরৎ |
বর্ষা ও হেমন্তের মধ্যবর্তী ঋতু (Autumn) |
কঙ্কণ |
হাতে পরার অলংকার বা বালা/চুড়ি |
| অরুণ |
ভোরের উদীয়মান লাল সূর্য |
ঝিলিক |
উজ্জ্বল আলোর চকচকে ঝলক |
| অঞ্জলি |
করজোড় / দু-হাত ভরে উপহার নিবেদন |
শ্যামল অঙ্গন |
সবুজ উঠোন বা বনভূমির প্রান্তর |
| মোহন |
মুগ্ধকর, মনোহর বা অত্যন্ত সুন্দর |
কুঞ্জছায়া |
লতাপাতায় ঘেরা স্নিগ্ধ ছায়াময় স্থান |
| কুন্তল |
মাথার চুল বা কেশপাশ |
গুঞ্জরণ |
ভ্রমরের গুনগুন মধুর সঙ্গীতধ্বনি |
| অঞ্চল |
শাড়ির আঁচল বা পাড় (প্রান্তভাগ) |
শিউলি বন |
শেফালি ফুলে ভরা সুবাসিত বন |
| চঞ্চলি |
চঞ্চল, ব্যাকুল বা আলোড়িত হয়ে |
আন্দোলি |
দোলা দিয়ে বা আন্দোলিত হয়ে |
✍️ কবি ও সুরকার পরিচিতি (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১ – ১৯৪১)
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ কবি, চিন্তাবিদ ও সংগীতস্রষ্টা। তাঁর রচিত হাজার হাজার গান বাঙালির শোক, আনন্দ ও উৎসবের প্রতিদিনের সঙ্গী। গানগুলি সংকলিত হয়েছে ‘গীতবিতান’ সংকলনগ্রন্থে এবং সেগুলির সুর ও স্বরলিপি সংরক্ষিত রয়েছে ‘স্বরবিতান’-এর বিভিন্ন খণ্ডে।
আমাদের পাঠ্য ‘শরৎ তোমার’ গানটি কবির ‘গীতবিতান’ গ্রন্থের ‘প্রকৃতি’ পর্যায়ভুক্ত একটি পরম জনপ্রিয় ও স্নিগ্ধ ঋতুসংগীত।
❓ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর ও জিজ্ঞাস্য
১ ‘শরৎ তোমার’ গানটি কার রচনা এবং এটি কোন পর্যায়ের গান?
উত্তর: ‘শরৎ তোমার’ গানটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর রচনা। গানটি তাঁর বিখ্যাত সংগীত সংকলন ‘গীতবিতান’-এর ‘প্রকৃতি’ পর্যায়ভুক্ত গান।
২ গানটিতে প্রকৃতির কোন ঋতুর বর্ণনা দেওয়া হয়েছে?
উত্তর: গানটিতে বর্ষার অবসানে আগত নির্মল, শুভ্র ও স্নিগ্ধ শরৎ ঋতুর অপরূপ প্রাকৃতিক রূপ ও সৌন্দর্যের বন্দনা করা হয়েছে।
৩ কবির কল্পনায় শরতের কেশ বা কুন্তল কী দিয়ে ধোয়া?
উত্তর: কবির কল্পনায় শরতের রূপময় কেশদাম বা কুন্তল ভোরের পবিত্র ও নির্মল শিশিরবিন্দু দিয়ে ধোয়া।
৪ “মানিক-গাঁথা ওই-যে তোমার কঙ্কণে”—পঙ্ক্তিটির তাৎপর্য বুঝিয়ে দাও।
উত্তর: শরতের সোনালি রোদের কিরণ যখন সবুজ বনভূমির পাতার ওপর এবং শিশিরবিন্দুর গায়ে পড়ে ঝলমল করে ওঠে, তখন মনে হয় যেন শরতের হাতে পরা চুড়ি বা কঙ্কণে মহামূল্যবান রত্ন ও মানিক খচিত রয়েছে। প্রকৃতির সেই আলোকোজ্জ্বল রূপটিকেই কবি এই উপমায় সাজিয়েছেন।
৫ শরতের সমীরণে শিউলিবনে কী প্রতিক্রিয়া দেখা যায়?
উত্তর: শরতের স্নিগ্ধ বাতাস ও ভ্রমরের গুঞ্জনে শিউলি ফুলের বনের বুক পরম আনন্দে দোলা খায় বা আন্দোলিত হয়ে ওঠে এবং চারদিকে সুবাস ছড়িয়ে দেয়।