✨ WBBSE Class 5
📖 পাতাবাহার বাংলা
📌 ৭ম অধ্যায় সম্পূর্ণ নোটস
বিমলার অভিমান — নবকৃষ্ণ ভট্টাচার্য : সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর ও ব্যাকরণ সমাধান
বিষয়
বাংলা সাহিত্য
অধ্যায়
বিমলার অভিমান (কবিতা)
কবি
নবকৃষ্ণ ভট্টাচার্য
পাঠ্যপুস্তক
পাতাবাহার
📖 কবিতার পরিচিতি ও সারমর্ম
মূলভাব: কবি নবকৃষ্ণ ভট্টাচার্যের রচিত 'বিমলার অভিমান' কবিতায় পরিবারের মধ্যে অবহেলার শিকার এক ছোট্ট মেয়ে বিমলার গভীর অভিমানের কথা অত্যন্ত দরদ দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে। সারাদিন বাড়ির সমস্ত ফরমাশ খাটতে হয় বিমলাকেই—পূজার ফুল আনা, দুরন্ত খোকা কাঁদলে তাকে সামলানো, বাগানের ছাগল তাড়ানো, খাওয়ার পাতে নুন বা পানের চুন এনে দেওয়ার মতো যাবতীয় কাজে তার ডাক পড়ে।
কিন্তু যখন সুস্বাদু ক্ষীর খাওয়ার সময় আসে, তখন দাদা বয়সে বড়ো এবং ভাই অবু ছোটো হওয়ার অজুহাতে তাদের বেশি ক্ষীর দেওয়া হয়, আর বিমলার পাতে জোটে নামমাত্র। পরিবারের এই বৈষম্যমূলক ও অন্যায্য আচরণের বিরুদ্ধেই বিমলা গভীর অভিমান নিয়ে ক্ষীর খেতে অস্বীকার করেছে।
১. ভাবনা ও মুক্তচিন্তামূলক প্রশ্নোত্তর
১.১ তোমার বাড়িতে কে বেশি কাজ করে এবং তারা কী কী কাজ করে?
উত্তর: আমার বাড়িতে মা সবচেয়ে বেশি কাজ করেন। তিনি প্রতিদিন ভোরবেলায় ঘুম থেকে উঠে রান্না করা, ঘরবাড়ি পরিষ্কার ও গুছিয়ে রাখা, বাসন মাজা, কাপড় কাচা এবং আমাদের ভাই-বোনদের পড়াশোনা ও স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখার মতো যাবতীয় সংসারের কাজ একহাতে সামলান।
১.২ বাড়িতে ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়—এ বিষয়ে তোমার কী মনে হয়?
উত্তর: প্রাচীনকাল থেকে আমাদের সমাজে বাড়ির সমস্ত কাজকর্ম মেয়েদের দায়িত্ব বলে ধরে নেওয়া হতো। তবে বর্তমান যুগে চিন্তাধারার ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। এখন নারী-পুরুষ উভয়েই বাইরে চাকরি ও পড়াশোনা করছে। আমার মতে, ঘরের কাজকর্ম নির্দিষ্টভাবে শুধু মেয়েদের উপর চাপিয়ে না দিয়ে পরিবারের সকলের মিলেমিশে ভাগ করে নেওয়া উচিত।
১.৩ ছেলে এবং মেয়ের মধ্যে তফাত করা উচিত নয়—যুক্তি দিয়ে পাঁচটি বাক্য লেখো:
১. ছেলে ও মেয়ে উভয়েরই মেধা, কর্মক্ষমতা ও চিন্তাশক্তি সমান।
২. বর্তমান যুগে মেয়েরা খেলাধুলা, বিজ্ঞান ও দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে ছেলেদের মতোই সমান কৃতিত্ব দেখাচ্ছে।
৩. পরিবার ও সমাজের ভারসাম্যপূর্ণ বিকাশের জন্য নারী ও পুরুষ উভয়ই অপরিহার্য অঙ্গ।
৪. উভয়কে সমান সুযোগ ও উপযুক্ত শিক্ষা দিলে তবেই জাতির সামগ্রিক উন্নতি সম্ভব।
৫. তাই শুধুমাত্র লিঙ্গের ভিত্তিতে কোনো বিভেদ বা বৈষম্য সৃষ্টি করা অনুচিত।
২. শব্দগুলোর অর্থপার্থক্য লেখো
| শব্দ | অর্থ | শব্দ | অর্থ |
| ভার | বোঝা বা গুরুদায়িত্ব | ভাঁড় | মাটির ছোটো পাত্র / কৌতুক অভিনেতা |
| বাঁচা | জীবিত থাকা বা প্রাণরক্ষা | বাছা | বাছাই করা / স্নেহের সম্বোধন (ওরে বাছা) |
| সোনা | একটি মূল্যবান উজ্জ্বল ধাতু | শোনা | কান দিয়ে শ্রবণ করা বা কথা মান্য করা |
৩. একই শব্দের ভিন্নার্থে দুটি করে অর্থ লেখো
৩ শব্দদ্বয়ের পৃথক দুটি অর্থ:
বেলা: ১) দিনের নির্দিষ্ট সময় (যেমন— সকাল বেলা)। ২) সমুদ্রের বালুকাময় উপকূল বা তীর (যেমন— বেলাভূমি)।
দাম: ১) আর্থিক মূল্য বা দর (যেমন— বইটির দাম)। ২) জলজ আগাছা বা কচুরিপানার দল (যেমন— দামের ছড়া)।
৪. কবিতা থেকে অন্ত্যমিলযুক্ত শব্দজোড়া
• নুন — চুন (উদাহরণ)
• মুড়িয়ে — তাড়িয়ে
• করো — মরো
• যেই — নেই
• তাই — ভাই
• চূড়ো — নুড়ো
৫. 'ক' স্তম্ভের সঙ্গে 'খ' স্তম্ভ মেলাও
| 'ক' স্তম্ভ | 'খ' স্তম্ভ (সঠিক অর্থ) |
| নুন | লবণ |
| দুরন্ত | দুষ্টু / চঞ্চল |
| ছাই | ভস্ম |
| ফরমাস | আদেশ বা হুকুম |
| চূড়ো | শিখর / শীর্ষদেশ |
৬. শব্দঝুড়ি থেকে বিশেষ্য ও বিশেষণ আলাদা করে লেখো
ক্ষীর, বেশি, ছাই, দুরন্ত, বিমলা, নুন, ঝাল, ছোটো, পান, নটে গাছ, খোকা, কম
ক্ষীর
ছাই
বিমলা
নুন
পান
নটে গাছ
খোকা
৭. ক্রিয়ার নীচে দাগ দাও
৭ বাক্যগুলি থেকে ক্রিয়াপদ চিহ্নিত করো:
৭.১ খাব না তো আমি।
৭.২ যা বিমলা যা।
৭.৩ ও বিমলা, নে মা একবার।
৭.৪ অবু বেশি খাবে।
৭.৫ দে মা এনে চুন।
৮. উপযুক্ত শব্দ বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো
৮ কবিতার চরণ অনুযায়ী শূন্যস্থান পূরণ:
৮.১ পূজা করি, দাও এনে, সোনামনি মা।
৮.২ কাঁদিলে দুরন্ত খোকা রাখা তারে ভার।
৮.৩ ছাগলেতে নটে গাছ খেলে যে মুড়িয়ে।
৮.৪ পানটা যে বড়ো ঝাল, দে মা এনে চুন।
৯. বেমানান শব্দটি চিহ্নিত করো
৯ বেমানান শব্দ ও তার কারণ:
৯.১ ক্ষীর, ছাগল, বিমলা, অবনী, দাদা ➔ কারণ: ক্ষীর জড়বস্তু বা খাদ্য, বাকিরা সজীব চরিত্র/প্রাণী।
৯.২ ফুল, রাধু, বিমলা, সোনামনি মা, পূজা ➔ কারণ: পূজা একটি কাজের নাম, বাকিগুলি চরিত্র বা বস্তুবাচক।
৯.৩ সোনার চূড়ো, ছাইয়ের নুড়ো, দল, বিমলা, মাধু ➔ কারণ: সোনার চূড়ো ও ছাইয়ের নুড়ো আলংকারিক বাগধারা, বাকিরা ব্যক্তি বা সমষ্টিবাচক।
১০. বিপরীতার্থক শব্দ লেখো
| মূল শব্দ | বিপরীত শব্দ | মূল শব্দ | বিপরীত শব্দ |
| দাও | নাও | ঝাল | মিষ্টি |
| বড়ো | ছোটো | আসে | যায় |
| বেশি | কম | — | — |
১১. বাক্য রচনা করো
১১ অর্থপূর্ণ বাক্যে প্রয়োগ:
ক্ষীর: বাঙালির যে-কোনো উৎসবে মায়ের হাতের সুস্বাদু ক্ষীর পরিবেশন করা হয়।
দুরন্ত: পাড়ার দুরন্ত ছেলেটি সারাদিন বন্ধুদের সাথে মাঠে ফুটবল খেলে।
ছাই: কাঠ পোড়ানো কাঠের ছাই গাছের গোড়ায় দিলে ভালো সার হিসেবে কাজ করে।
নটেগাছ: ছাগলটি এসে আমাদের বাগানের সবুজ নটেগাছটি মুড়িয়ে খেয়ে গেল।
চুন: পানের ঝাল কমাতে বয়স্ক ব্যক্তিরা পানের পাতায় অল্প চুন মাখিয়ে নেন।
১২. এলোমেলো শব্দ সাজিয়ে অর্থপূর্ণ বাক্য গঠন করো
১২ শব্দ বিন্যাস করে সঠিক বাক্য গঠন:
১২.১ পরিমাণে দাদার কম বিমলার থেকে ক্ষীর ➔ দাদার থেকে বিমলার ক্ষীর পরিমাণে কম।
১২.২ হয় বিমলাকে ফুল পূজার আনতে ➔ পূজার ফুল আনতে হয় বিমলাকে।
১২.৩ করে সবার পালন বিমলা ফরমাস সব ➔ সবার সব ফরমাস পালন করে বিমলা।
১২.৪ মেয়ে বিমলার অবিচার প্রতি শুধু বলে হয় করা ➔ মেয়ে বলে বিমলার প্রতি শুধু অবিচার করা হয়।
১২.৫ নয় করা ছেলেমেয়ের বৈষম্য মধ্যে উচিত ➔ ছেলেমেয়ের মধ্যে বৈষম্য করা উচিত নয়।
১৩. কোনটি কী ধরনের বাক্য লেখো
| প্রদত্ত বাক্য | বাক্যের শ্রেণিবিভাগ |
| ১৩.১ খাব না তো আমি। | না-সূচক বাক্য / নেতিবাচক বাক্য |
| ১৩.২ যা বিমলা যা। | অনুজ্ঞাসূচক বাক্য (আদেশ/অনুরোধ) |
| ১৩.৩ ছাগলেতে নটেগাছ খেলে যে মুড়িয়ে। | বিবৃতিমূলক / নির্দেশক বাক্য |
| ১৩.৪ আমার বেলাই বুঝি, ক্ষীর মাত্র নাম-ই? | প্রশ্নবোধক বাক্য |
১৪. কবি পরিচিতি (নবকৃষ্ণ ভট্টাচার্য : ১৮৫৯ – ১৯৩২)
১৪.১ কবি নবকৃষ্ণ ভট্টাচার্য কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র ছিলেন?
উত্তর: কবি নবকৃষ্ণ ভট্টাচার্য কলকাতার ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃত কলেজিয়েট স্কুল-এর ছাত্র ছিলেন।
১৪.২ তাঁর লেখা উল্লেখযোগ্য দুটি বইয়ের নাম লেখো।
উত্তর: ছোটোদের জন্য লেখা তাঁর রচিত দুটি উল্লেখযোগ্য বই হলো 'বালক পাঠ' এবং 'শিশুপাঠ' (এছাড়াও 'টুকটুকে রামায়ণ')।
১৪.৩ তিনি কোন কোন পত্র-পত্রিকা সম্পাদনার কাজে যুক্ত ছিলেন?
উত্তর: তিনি ছোটোদের জনপ্রিয় 'সখা' পত্রিকার সম্পাদক এবং 'মাসিক বসুমতী' পত্রিকার সহ-সম্পাদক হিসেবে যুক্ত ছিলেন।
১৫. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো
১৫.১ বিমলাকে সারাদিন কোন কোন কাজ করতে হয়?
উত্তর: বিমলাকে সারাদিন বাড়িতে হরেক রকম ফরমাশ খাটতে হয়। যেমন— পূজার জন্য ফুল তোলা, কান্নারত দুরন্ত ভাই খোকাকে সামলানো, বাগানের নটেগাছ খেলে ছাগল তাড়ানো, খাওয়ার পাতে দাদাকে নুন দেওয়া এবং পানের তীব্র ঝাল কমাতে চুন এনে দেওয়ার মতো কাজ বিমলাকেই করতে হয়।
১৫.২ বিমলার ছোটো ভাইয়ের নাম কী? সে ও তার দাদা বেশি বেশি খাবার পাবে কেন?
উত্তর: বিমলার ছোটো ভাইয়ের নাম হলো অবনী (বা অবু)। তাদের বাড়ির প্রথানুযায়ী, অবু পরিবারের সবচেয়ে ছোটো সন্তান তাই সে বেশি খাবার পাবে, আর দাদা বয়সে সবার বড়ো তাই সেও ক্ষীর বেশি পাবে।
১৫.৩ 'তাই বুঝি বিমলার কমে গেছে দাম-ই'—বিমলার দাম কমে গেছে মনে হওয়ার কারণ কী?
উত্তর: সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সংসারের যাবতীয় ফাইফরমাশ বিমলা একা হাতে পালন করলেও, ক্ষীর বিতরণের সময় তাকে চরম অবহেলা করা হয়। দাদাকে দেওয়া হয় সোনার চূড়োর মতো পাহাড়প্রমাণ ক্ষীর আর অবুকেও দেওয়া হয় বেশি, কিন্তু বিমলার ভাগে জোটে নামমাত্র। কাজের বেলায় কদর থাকলেও প্রাপ্য ভালোবাসার বেলায় তাকে তুচ্ছ মনে করায় বিমলার এমন অনুভূতি হয়েছে।
১৫.৪ বিমলার প্রতি তোমার অনুভূতির কথা পাঁচটি বাক্যে লেখো:
১. পরিশ্রমী ও স্নেহের প্রতিমূর্তি বিমলার প্রতি আমার গভীর সহমর্মিতা রয়েছে।
২. সমস্ত কাজ হাসিমুখে করে দেওয়ার পরও প্রাপ্য প্রশংসা ও স্নেহ না পাওয়াটা সত্যিই হৃদয়বিদারক।
৩. বড়ো ও ছোটোর বাহানায় খাবারের মতো মৌলিক ক্ষেত্রে বিমলার সাথে অন্যায় করা হয়েছে।
৪. কন্যা সন্তান হওয়ার কারণে বৈষম্যের শিকার হওয়া বিমলার অভিমানী প্রতিবাদ সম্পূর্ণ যুক্তিসঙ্গত।
৫. পরিবারের সকলের উচিত বিমলাকে সমান মর্যাদা, ভালোবাসা ও যত্নে ভরিয়ে রাখা।
১৫.৫ খেতে না চেয়ে তুমি বা তোমার বন্ধুরা কখনো প্রতিবাদ জানিয়েছ—এমন অভিজ্ঞতা লেখো।
উত্তর: হ্যাঁ, একবার বাড়িতে আমার পছন্দের খাবার রান্না না করে আমার ভাইয়ের পছন্দের পদ রান্না করা হয়েছিল। এই বৈষম্য মেনে নিতে না পেরে আমি সেদিন রাতে খাবার টেবিলে যেতে অস্বীকার করেছিলাম। পরে মা আমার অভিমান বুঝতে পেরে কাছে এসে আদর করে বুঝিয়েছেন এবং পরদিন আমার পছন্দের পদটি রেঁধে দেওয়ায় আমার রাগ ভেঙেছিল।
১৫.৬ বিমলার অভিমান করার কারণ কী তা সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর: বিমলার অভিমানের মূল কারণ পরিবারের অন্যায় লিঙ্গবৈষম্য ও পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ। সারাদিন পূজার ফুল তোলা থেকে ভাই সামলানো, ছাগল তাড়ানো বা পানের চুন এনে দেওয়ার মতো যাবতীয় ফাইফরমাশ বিমলাকেই করতে হয়। কাজের সময় সবাইকে তার কথা মনে থাকলেও, খাবার বণ্টনের সময় তাকে সম্পূর্ণ ভুলে যাওয়া হয়।
দাদা বড়ো তাই সে ক্ষীর বেশি খাবে, ভাই অবু ছোটো তাই সেও বেশি খাবে—এই নিয়মে বিমলার পাতে নামমাত্র ক্ষীর জোটে। শুধুমাত্র মেয়ে হওয়ার কারণে এই অবিচার ও অবহেলার প্রতিবাদ জানাতেই আত্মমর্যাদাসম্পন্ন বিমলা ক্ষীর খেতে চায়নি।