✨ WBBSE Class 5
📖 পাতাবাহার বাংলা
📌 ২৪শ পাঠ সম্পূর্ণ নোটস
একলা — শঙ্খ ঘোষ : সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর ও ব্যাকরণ সমাধান
বিষয়
বাংলা সাহিত্য
অধ্যায়
একলা (কবিতা)
কবি
শঙ্খ ঘোষ
পাঠ্যপুস্তক
পাতাবাহার
📖 কবিতার পরিচিতি ও সারমর্ম
মূলভাব: বিশিষ্ট আধুনিক কবি শঙ্খ ঘোষের 'একলা' কবিতাটিতে নিসর্গ প্রকৃতির সাথে মানুষের এক আত্মিক ও নিবিড় বন্ধনের কথা অত্যন্ত কোমল সুরে প্রকাশিত হয়েছে। লোকচক্ষুর অন্তরালে একা থাকলেও মানুষ কখনোই প্রকৃত অর্থে একা বা নিঃসঙ্গ নয়।
কবির একাকী পদচারণায় সবুজ গাছপালা, বনের সরু পথ এবং চঞ্চল এক কাঠবিড়ালি তাঁর পরম বন্ধু ও নিত্যসঙ্গী হয়ে ওঠে। গাছের ওপর থেকে ঝরে পড়া শুকনো পাতাকে কবি প্রকৃতির এক 'মস্ত আশীর্বাদ' বলে মনে করেন। শালবন ও তালসুপারির বনে হারিয়ে গেলে মনের সমস্ত ক্ষোভ ও দুঃখ মুছে যায় এবং প্রকৃতির এই অপার নিস্তব্ধতা বা চুপ-থাকাটাও কবির মনের গভীরে এক স্বর্গীয় আনন্দের সুর বাজিয়ে তোলে।
📚 গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ (Word Meanings)
| শব্দ | অর্থ | শব্দ | অর্থ |
| একলা | নিঃসঙ্গ / সঙ্গীহীন বা একা | সাড়া | ডাকের জবাব বা সম্মতি দেওয়া |
| ইতস্তত | এখানে-সেখানে / ছড়িয়ে-ছিটিয়ে | আশীর্বাদ | কল্যাণকামনা বা শুভাশিস |
| কদ্দূরে | কত দূরে বা কতটা ব্যবধানে | তালসুপারি | তাল ও সুপারি গাছের বন |
১. নিজের ভাষায় উত্তর দাও
১.১ তুমি কখন একলা থাকো?
উত্তর: দুপুরবেলায় যখন বাড়ির সবাই বিশ্রাম নেয় কিংবা ছুটির দিনে খেলার বন্ধুরা কাছে না থাকলে আমি একলা থাকি।
১.২ সবুজ গাছপালায় ছাওয়া পথ কোথায় দেখেছ এবং সে পথে চলতে কেমন লাগে?
উত্তর: আমি আমার গ্রামের মেঠোপথে এবং পাহাড়ে বেড়াতে গিয়ে ছায়াঘেরা সবুজ পথ দেখেছি। সেই স্নিগ্ধ শীতল পথে হাঁটতে আমার মন শান্ত, স্নিগ্ধ ও আনন্দে ভরে ওঠে।
১.৩ কত রঙের ও কত রকমের পাথর তুমি দেখেছ?
উত্তর: আমি সাদা, কালো, লালচে, বাদামি ও ছাই রঙের পাথর দেখেছি। এগুলির মধ্যে কিছু পাহাড়ি নদীর ধারের মসৃণ নুড়িপাথর এবং কিছু এবড়োখেবড়ো শক্ত পাথর।
১.৪ গাছের থেকে কোন ঋতুতে পাতা ঝরে? কোন কোন গাছের পাতা ঝরতে দেখেছ?
উত্তর: সাধারণত শীতের শেষে ও বসন্তের শুরুতে গাছেদের পাতা ঝরে যায়। আমি শাল, আম, শিমুল, অশ্বত্থ এবং বটগাছ থেকে শুকনো পাতা ঝরে পড়তে দেখেছি।
১.৫ গাছ আমাদের কী কী দেয় তা পাঁচটি বাক্যে লেখো:
১. গাছ আমাদের শ্বাসগ্রহণের জন্য অমূল্য প্রাণবায়ু (অক্সিজেন) সরবরাহ করে।
২. গাছ আমাদের সুস্বাদু পুষ্টিকর ফল এবং সুবাসিত ফুল উপহার দেয়।
৩. গৃহনির্মাণ ও আসবাবপত্র তৈরির জন্য আমরা গাছের থেকে প্রয়োজনীয় কাঠ পাই।
৪. প্রখর গ্রীষ্মের রোদে গাছ ক্লান্ত পথচারীকে সুশীতল ছায়া প্রদান করে।
৫. গাছ বৃষ্টিপাত ঘটাতে সাহায্য করে এবং মাটির ক্ষয়রোধ করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে।
১.৬ পশ্চিমবঙ্গের কোন কোন জেলায় শালবন রয়েছে এবং শালপাতা কী কাজে লাগে?
উত্তর: পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম এবং পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় বিস্তীর্ণ শালবন রয়েছে। মানুষ শালপাতা সেলাই করে পরিবেশবান্ধব খাবার থালা ও বাটি তৈরিতে ব্যবহার করে।
১.৭ 'বাজনা' শুনলে কোন ছবি ভেসে ওঠে এবং কোন কোন বাদ্যযন্ত্র তুমি চেনো?
উত্তর: 'বাজনা' শুনলেই দুর্গাপূজা, মেলা ও উৎসবের আনন্দমুখর পরিবেশের ছবি ভেসে ওঠে। আমি ঢাক, ঢোল, তবলা, হারমোনিয়াম, বাঁশি, গিটার ও সানাই ইত্যাদি বাজনা চিনি এবং বাজতে দেখেছি।
২. বাচনভঙ্গি অনুযায়ী বাক্য সাজিয়ে লেখো
২ মুখে বলার স্বাভাবিক রূপে বাক্য বিন্যাস:
২.১ ভুলিয়ে দেয় সব হিসাব ও ➔ ও সব হিসাব ভুলিয়ে দেয়।
২.২ থাকে না আর দুঃখ কোনোই ➔ আর কোনোই দুঃখ থাকে না।
২.৩ ঠিক যদি দিই সাড়া ➔ যদি ঠিক সাড়া দিই।
৩. এলোমেলো বর্ণ সাজিয়ে শব্দ তৈরি করো
| এলোমেলো বর্ণ | সঠিক অর্থপূর্ণ শব্দ | এলোমেলো বর্ণ | সঠিক অর্থপূর্ণ শব্দ |
| পু রি তা সু ল | তালসুপারি | লি ড়া কা বে ঠ | কাঠবিড়ালি |
| লা পা ছ গা | গাছপালা | ত ত স্ত ই | ইতস্তত |
৪. শব্দঝুড়ি থেকে সহচর শব্দজোড় মেলাও
| প্রদত্ত শব্দ | মিলিত সহচর শব্দ (শব্দঝুড়ি থেকে) |
| এপার | ওপার |
| এখানে | ওখানে |
| একাল | সেকাল |
| এরকম | সেরকম |
৫ & ৬. বিপরীতার্থক শব্দ ও শব্দঝুড়ির মিল
| মূল শব্দ | বিপরীত শব্দ | মূল শব্দ | বিপরীত শব্দ |
| মস্ত | ছোটো | দিন | রাত |
| দুঃখ | সুখ | ভালো | মন্দ |
| আশীর্বাদ | অভিশাপ | আলো | আঁধার |
৭. বিশেষ্য ও বিশেষণ পদ চিহ্নিতকরণ
| বাক্যাংশ ও দাগ দেওয়া শব্দ | পদের শ্রেণিবিভাগ |
| ৭.১ আমি যখন একলা থাকি... | বিশেষণ পদ (Adjective) |
| ৭.২ থাকে সবুজ গাছপালা... | বিশেষণ পদ (Adjective) |
| ৭.৩ মস্ত আশীর্বাদের মতো মাথার উপর... | বিশেষ্য পদ (Noun) |
| ৭.৪ গাছের থেকে ঝরতে থাকে পাতা। | বিশেষ্য পদ (Noun) |
৮. পদ পরিবর্তন (বিশেষ্য থেকে বিশেষণ)
| বিশেষ্য শব্দ | রূপান্তরিত বিশেষণ (শব্দঝুড়ি থেকে) |
| গাছ | গেছো |
| বন | বুনো |
| দুঃখ | দুঃখী / দুঃখিত |
| পাথর | পাথুরে |
| মাটি | মেটে |
৯. অনুভূতির শূন্যস্থান পূরণ করো
৯ নিজস্ব ভাবনা দিয়ে বাক্য সম্পূর্ণ করো:
৯.১ আমি যখন একলা থাকি, তখন আমার মনে মনে গল্প ভাবতে বেশ ভালোই লাগে।
৯.২ আমার সবচেয়ে প্রিয় গাছ হলো আমগাছ। আমগাছ আমার পছন্দ কারণ এর মিষ্টি সুস্বাদু ফল খেতে পারি এবং গরমে এর ঘন ছায়ায় আরাম মেলে।
৯.৩ আমার ভালো লাগবে যদি আমার বন্ধু হয় খুব সৎ, সহমর্মী এবং বিপদের দিনে যে কখনো হাত ছেড়ে যায় না।
১০. কবি পরিচিতি (শঙ্খ ঘোষ : ১৯৩২ – ২০২১)
১০.১ কবি শঙ্খ ঘোষের প্রথম প্রকাশিত কবিতার বই কোনটি?
উত্তর: কবি শঙ্খ ঘোষের প্রথম কাব্যগ্রন্থ হলো 'দিনগুলি রাতগুলি'।
১০.২ ছোটোদের জন্য লেখা তাঁর দুটি জনপ্রিয় বইয়ের নাম লেখো।
উত্তর: ছোটোদের জন্য রচিত তাঁর দুটি উল্লেখযোগ্য বই হলো— 'ছোট্ট একটা ইস্কুল' এবং 'অল্পবয়স কল্পবয়স'।
১০.৩ 'একলা' কবিতাটি তাঁর কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে?
উত্তর: 'একলা' কবিতাটি কবির বিখ্যাত 'আমায় তুমি লক্ষ্মী বলো' কাব্যগ্রন্থ থেকে গৃহীত হয়েছে।
১১. বিশদ ও ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর
১১.১ কবি যখন একলা থাকেন, তখন তাঁর সঙ্গে কারা থাকে?
উত্তর: কবি যখন একা থাকেন, তখন প্রকৃতির শ্যামল রূপ তাঁর সঙ্গী হয়। তাঁর চারপাশে থাকে সবুজ গাছপালা, বনের ছায়াঘেরা পথ এবং একটি চঞ্চল কাঠবিড়ালি।
১১.২ কবিতায় বর্ণিত কাঠবিড়ালিকে ধরতে পারার চেষ্টায় কবি কি সফল হন?
উত্তর: না, কাঠবিড়ালিকে ধরতে গিয়ে কবি সফল হন না। কারণ কবি কাছে যেতেই সে সব হিসাব ভুলিয়ে দিয়ে দ্রুত তরতর করে গাছের ডালে পালিয়ে যায়।
১১.৩ কবি কোন্ বিষয়কে 'মস্ত আশীর্বাদ' বলেছেন?
উত্তর: মাথার ওপর গাছের পাতাগুলো যখন পরম স্নেহে আলতো করে ইতস্তত ঝরে পড়ে, প্রকৃতির সেই অমূল্য স্নিগ্ধ পরশকে কবি 'মস্ত আশীর্বাদ' বলে অভিহিত করেছেন।
১১.৪ কবির মনে কখন আর কোনো দুঃখই থাকে না?
উত্তর: শালবনে কিংবা তালসুপারির ছায়ানিবিড় অরণ্যপথে যখন কবি আপনমনে হেঁটে বেড়ান, তখন প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের পরশে তাঁর মনে আর কোনো পার্থিব দুঃখ থাকে না।
১১.৫ প্রকৃতির চুপ-থাকাটাও কীভাবে কবির মনে বাজনা বাজায়?
উত্তর: অরণ্যের নিস্তব্ধতার মাঝে এক গভীর অন্তর্লীন ছন্দ ও সুর লুকিয়ে থাকে। কবি সেই শান্ত নীরবতাকে হৃদয়ের গভীরে অনুভব করতে পারেন, তাই প্রকৃতির এই চুপ-থাকাটাও কবির মনের তারে এক অপূর্ব আনন্দের বাজনা বাজিয়ে তোলে।
১১.৬ একলা থাকার একটি সুন্দর দিনলিপি (Diary Writing)
তারিখ: ১০ই মে, রবিবার
আজ বাড়িতে আমি সম্পূর্ণ একলা ছিলাম। সকালে বারান্দায় বসে পাখির ওড়াউড়ি দেখেছি। তারপর গল্পের বই পড়েছি এবং ড্রয়িং খাতায় রঙপেন্সিল দিয়ে সবুজ বনের ছবি এঁকেছি। দুপুরে বাগানের গাছে জল দিয়েছি এবং পাখিদের জন্য চালের দানা ছড়িয়ে দিয়েছি। প্রকৃতির সান্নিধ্যে একা থাকার এই দিনটি আমার খুব শান্ত ও মধুর কেটেছে।
১১.৯-১১.১০ ছড়া ও বৈজ্ঞানিক সত্যের উপলব্ধি
নজরুলের কাঠবিড়ালি ছড়া:
"কাঠবিড়ালি! কাঠবিড়ালি! পেয়ারা তুমি খাও?
গুড়-মুড়ি খাও? দুধ-ভাত খাও? বাতাবি-নেবু? লাউ?"
গাছের প্রাণের প্রমাণ (জগদীশচন্দ্র বসু): চারাগাছ ধীরে ধীরে বড়ো হয়, সূর্যের দিকে বাড়ে এবং আঘাত পেলে বা জল না পেলে শুকিয়ে যায়। লজ্জাবতী পাতায় স্পর্শ করলেই তা বুজে যায়—এগুলি প্রমাণ করে যে গাছের অনুভূতি ও প্রাণ আছে।