✨ WBBSE Class 5
📖 পাতাবাহার বাংলা
📌 ২১শ পাঠ সম্পূর্ণ নোটস
মিষ্টি — প্রেমেন্দ্র মিত্র : সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর ও ব্যাকরণ সমাধান
বিষয়
বাংলা সাহিত্য
অধ্যায়
মিষ্টি (কবিতা)
কবি
প্রেমেন্দ্র মিত্র
পাঠ্যপুস্তক
পাতাবাহার
📖 কবিতার পরিচিতি ও সারমর্ম
মূলভাব: কবি প্রেমেন্দ্র মিত্রের 'মিষ্টি' কবিতাটিতে জীবনের এক গভীর ও চিরন্তন জীবনদর্শন অত্যন্ত সহজ-সরল রূপকে প্রকাশ পেয়েছে। যে আকাশে কখনো মেঘের গর্জন বা কালবৈশাখীর ঝড় ওঠে না, কিংবা যে মসৃণ পথে চলতে গিয়ে কখনো হোঁচট খাওয়ার ভয় থাকে না—সেই নিস্তরঙ্গ ও বাধাহীন একঘেয়ে জীবনে কোনো আনন্দ বা উত্তেজনা থাকে না।
জীবন মানেই চড়াই-উতরাই ও প্রতিকূলতার সাথে সংগ্রাম। যেমন শক্ত ছালওয়ালা আখকে দাঁত দিয়ে প্রাণপণে চিবিয়ে খেতে হয় বলেই তার ভেতরের মিষ্টি রস আমাদের কাছে অমৃতসমান লাগে, তেমনি জীবনে বহু বাধা-বিপত্তি ও কঠোর পরিশ্রম অতিক্রম করে যে সাফল্য বা সুখ অর্জন করা যায়, তার তৃপ্তিই হয় সবচেয়ে বেশি 'মিষ্টি'।
📚 গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ (Word Meanings)
| শব্দ | অর্থ | শব্দ | অর্থ |
| পিছলে | পা হড়কে বা পিছলে পড়ে যাওয়া | দুখখু | দুঃখ, বেদনা বা মানসিক কষ্ট |
| চড়াই | নীচ থেকে ওপরে ওঠার খাড়া পথ | রোদ্দুর | রৌদ্র, রোদ বা সূর্যের প্রখর আলো |
| মুখখু | মূর্খ, অজ্ঞ বা নির্বোধ মানুষ | উতরাই | ওপর থেকে নীচে নামার ঢালু পথ |
১. নিজের ভাষায় উত্তর দাও
১.১ কোন্ ঋতুতে সাধারণত আকাশে ঝড় ওঠে না, মেঘ ডাকে না?
উত্তর: সাধারণত শরৎ ও শীত ঋতুতে আকাশ পরিষ্কার ও মেঘমুক্ত থাকে বলে ঝড় ওঠে না বা মেঘ ডাকে না।
১.২ কোন্ ঋতুতে সাধারণত পথ-ঘাট পিছল হয়ে পড়ে?
উত্তর: সাধারণত বর্ষাকালের অবিশ্রান্ত বৃষ্টির জলে পথ-ঘাট কর্দমাক্ত ও পিছল হয়ে পড়ে।
১.৩ কোন্ পথে সহজেই গড়িয়ে পড়া যায়?
উত্তর: যে পথ সম্পূর্ণ মসৃণ, পিচ্ছিল ও ঢালু এবং যে পথে কোনো ধরনের চড়াই-উতরাই বা হোঁচট খাওয়ার বাধা নেই, সেই পথে সহজেই গড়িয়ে পড়া যায়।
১.৪ চড়াই-উতরাই রাস্তা কোথায় দেখা যায়?
উত্তর: চড়াই-উতরাই বা পাহাড়ি আঁকাবাঁকা বন্ধুর রাস্তা সাধারণত পাহাড়ি ও মালভূমি অঞ্চলে দেখা যায়।
১.৫ 'রাস্তা' শব্দটি অন্য কোন নামে কবিতায় আছে?
উত্তর: 'রাস্তা' শব্দটি কবিতায় 'পথ' নামে উল্লেখিত রয়েছে।
১.৬ আখের প্রসঙ্গ রয়েছে এমন অন্য একটি পাঠ্য রচনার নাম লেখো।
উত্তর: আখের প্রসঙ্গ রয়েছে এমন অন্য একটি জনপ্রিয় গল্প হলো উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর লেখা 'বোকা কুমিরের কথা'।
২. মূল শব্দ নির্ণয় (তদ্ভব শব্দের উৎস)
| কবিতার শব্দ | মূল সংস্কৃত উৎস শব্দ | শব্দের ব্যুৎপত্তিগত পরিচয় |
| আখ | ইক্ষু | সংস্কৃত 'ইক্ষু' ➔ প্রাকৃত 'ইক্খু' ➔ বাংলা 'আখ' |
| রোদ্দুর | রৌদ্র | সংস্কৃত 'রৌদ্র' ➔ প্রাকৃত 'রোদ্দ' ➔ বাংলা 'রোদ্দুর' |
৩. ভিন্নার্থে শব্দ প্রয়োগ ও বাক্য রচনা
৩ 'চড়াই' ও 'পড়ে' শব্দের দুটি করে ভিন্ন অর্থ ও বাক্য:
চড়াই (খাড়া ঢাল বেয়ে ওপরে ওঠা): পাহাড়ের এই খাড়া চড়াই পথ অতিক্রম করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ও ক্লান্তিকর।
চড়াই (ছোটো পাখিবিশেষ): আমাদের ঘরের ঘুলঘুলিতে একজোড়া ছোট্ট চড়াই পাখি খড়কুটো দিয়ে সুন্দর বাসা বেঁধেছে।
পড়ে (পতিত হওয়া / হড়কে যাওয়া): পিচ্ছিল রাস্তায় চলতে গিয়ে অসাবধানতায় পথচারীটি মাটিতে পড়ে গেল।
পড়ে (পাঠ করা / অধ্যয়ন করা): প্রতিদিন ভোরবেলায় আমার ছোটো বোন খুব মনোযোগ সহকারে বর্ণপরিচয় পড়ে।
৪. তিনটি ভিন্ন রাস্তা ও পছন্দের যুক্তি
৪ স্কুলে যাওয়ার, খেলতে যাওয়ার ও বন্ধুর বাড়ি যাওয়ার রাস্তার বর্ণনা:
স্কুলে যাওয়ার রাস্তা: আমার স্কুলে যাওয়ার রাস্তাটি চওড়া পিচ বাঁধানো ও মসৃণ। সকালবেলা এই রাস্তায় বহু গাড়ি ও পথচলতি মানুষের প্রচুর ভিড় থাকে।
খেলতে যাওয়ার রাস্তা: খেলার মাঠের রাস্তাটি লাল মাটির মেঠোপথ এবং তার দু-পাশে সারি সারি বড়ো বড়ো বট ও নিমগাছ রয়েছে।
বন্ধুর বাড়ি যাওয়ার রাস্তা: বন্ধুর বাড়ি যাওয়ার রাস্তাটি ইটের তৈরি বেশ সরু একটি গলি। রাস্তার দু-ধারে সুন্দর ফুলের বাগান চোখে পড়ে।
পছন্দের রাস্তা ও দুটি যুক্তি: আমার খেলতে যাওয়ার মেঠো রাস্তাটি সবচেয়ে প্রিয়।
যুক্তি ১: রাস্তার দু-পাশে ঘন ছায়াশীতল গাছপালা থাকায় মিষ্টি বাতাস ও পাখির ডাক উপভোগ করা যায়।
যুক্তি ২: এই পথ পেরোলেই দিগন্তবিস্তৃত উন্মুক্ত খেলার মাঠ দেখতে পাওয়া যায়, যা আমাকে অপার আনন্দ দেয়।
৫. ভাবার্থ বিশ্লেষণ : কষ্টের বিনিময়ে পাওয়া সুখই প্রকৃত সুখ
মূলভাবের প্রকাশ: কবি প্রেমেন্দ্র মিত্র 'মিষ্টি' কবিতায় দেখিয়েছেন যে কোনো বাধা বা পরিশ্রম ছাড়া অনায়াসে যা লাভ করা যায়, তার কোনো সত্যিকারের মূল্য বা স্থায়িত্ব থাকে না। যে পথে কোনো চড়াই-উতরাই নেই, সেখানে চলার আনন্দও নেই।
কবিতার শেষে কবি শক্ত আখের উদাহরণ দিয়েছেন। রসালো হলেও আখকে চিবিয়ে খেতে বেশ কষ্ট করতে হয় এবং দাঁতের জোর খাটাতে হয়। এই মেহনত ও বাধার কারণেই আখের মিষ্টি রস পান করে মানুষ পরম তৃপ্তি লাভ করে। মানবজীবনেও বহু দুঃখ-কষ্ট ও কঠোর পরিশ্রমের বিনিময়ে অর্জিত সাফল্যই এনে দেয় পরম আনন্দ ও প্রকৃত সুখের আস্বাদন।
৬. কবি পরিচিতি (প্রেমেন্দ্র মিত্র : ১৯০৪ – ১৯৮৮)
৬.১ ছোটোদের জনপ্রিয় চরিত্র 'ঘনাদা' কার সৃষ্টি?
উত্তর: বাংলা সাহিত্যের অদ্বিতীয় আড্ডাবাজ ও কাল্পনিক গল্পবলিয়ে চরিত্র 'ঘনাদা'-র স্রষ্টা হলেন প্রখ্যাত সাহিত্যিক প্রেমেন্দ্র মিত্র।
৬.২ প্রেমেন্দ্র মিত্র কোন বিখ্যাত সাহিত্য-পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন?
উত্তর: তিনি বাংলা সাহিত্যের আধুনিক কল্লোল যুগের মুখপত্র 'কল্লোল' পত্রিকার সম্পাদনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন।
৬.৩ তাঁর লেখা দুটি উল্লেখযোগ্য বইয়ের নাম লেখো।
উত্তর: তাঁর রচিত দুটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ও গল্পগ্রন্থ হলো— 'সাগর থেকে ফেরা' এবং 'হরিণ-চিতা-চিল' (এছাড়াও 'বেনামী বন্দর', 'কুহু ও কেকা')।
৭. পছন্দের মিষ্টি খাবারের মানস মানচিত্র ও বাক্য রচনা
🍬 পছন্দের দশটি সুস্বাদু মিষ্টি:
রসগোল্লা
পান্তুয়া
সন্দেশ
জিলিপি
চমচম
রাজভোগ
কালাকাঁদ
বোঁদে
মিহিদানা
রসমালাই
| মিষ্টির নাম | সার্থক বাক্যে প্রয়োগ |
| রসগোল্লা | বাংলার রসালো নরম তুলতুলে রসগোল্লা বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত সমাদৃত। |
| পান্তুয়া | উৎসবে পরিবেশিত গরম গরম রসে টইটম্বুর পান্তুয়া খেতে ভারী সুস্বাদু লাগে। |
| সন্দেশ | শীতকালের খাঁটি নলেন গুড়ের সন্দেশের অপূর্ব সুবাস সবার মন কাড়ে। |
| জিলিপি | রথের মেলায় গিয়ে মচমচে গরম জিলিপি খাওয়ার আনন্দই আলাদা। |
| চমচম | টাঙ্গাইলের বিখ্যাত পোড়াবাড়ির চমচম খেতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসে। |
| রাজভোগ | কেশর ও ছানায় তৈরি রাজভোগ মিষ্টিটি আকারে বেশ বড়ো ও চমৎকার হয়। |
| কালাকাঁদ | জন্মদিনের আনন্দ উদযাপনে দিদি দোকান থেকে টাটকা কালাকাঁদ এনেছিল। |
| বোঁদে | হলুদ ও লাল রঙের রসালো বোঁদে দেখতে ও খেতে চমৎকার লাগে। |
| মিহিদানা | ঐতিহ্যবাহী বর্ধমানের মিহিদানা ভৌগোলিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত এক অনন্য মিষ্টি। |
| রসমালাই | দুধের ঘন মালাইয়ে ডোবানো ঠান্ডা রসমালাই আমার অত্যন্ত প্রিয়। |
৮. বিভিন্ন ঋতুর আকাশের তুলনামূলক রূপ
৮.১ শরৎকাল ও বর্ষাকালের আকাশের রূপভেদ
শরৎকালের আকাশ: নির্মল নীল আকাশে পেঁজা তুলোর মতো শুভ্র সাদা মেঘের ভেলা ভেসে বেড়ায়। উজ্জ্বল সোনালি রোদ ও চারপাশের কাশফুলের দোলায় এক শান্ত স্নিগ্ধ পরিবেশ বিরাজ করে।
বর্ষাকালের আকাশ: আকাশ থাকে নিবিড় ঘন কালো মেঘে ঢাকা। চারপাশ অন্ধকার করে একটানা ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি ঝরে এবং ঘন ঘন বিদ্যুৎ ও মেঘের গর্জন শোনা যায়।
৮.২ শীতকালের আকাশের রূপের বর্ণনা
উত্তর: শীতকালের আকাশ সাধারণত ধোঁয়াশাহীন ও মেঘমুক্ত থাকে। খুব ভোরের দিকে চারপাশ ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ে দৃষ্টিসীমা ঝাপসা হয়ে আসে। তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে মিষ্টি নরম রোদের কিরণ ছড়িয়ে পড়ে সমগ্র প্রকৃতিকে ঝলমলে ও প্রাণবন্ত করে তোলে।