✨ WBBSE Class 5
📖 পাতাবাহার বাংলা
📌 ১০ম পাঠ সম্পূর্ণ নোটস
পাহাড়িয়া বর্ষার সুরে : সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর, লোককথা ও ব্যাকরণ সমাধান
বিষয়
বাংলা সাহিত্য
অধ্যায়
পাহাড়িয়া বর্ষার সুরে
উৎস
লোকসংস্কৃতি ও লোককথা
পাঠ্যপুস্তক
পাতাবাহার
📖 গদ্যাংশের পরিচিতি ও সারমর্ম
মূলভাব: 'পাহাড়িয়া বর্ষার সুরে' গদ্যাংশটিতে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর প্রান্তে হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত তরাই অঞ্চলের বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের (যেমন—মেচ, রাভা, গারো, লেপচা, টোটো) জীবনযাত্রা ও লোকসংস্কৃতির সজীব পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। বর্ষায় নদীনালা ভরে উঠলে নতুন জলে রাভাদের সমবেতভাবে মাছ ধরতে যাওয়ার আনন্দ একটি প্রচলিত রাভা গানের বাংলা অনুবাদের মাধ্যমে ফুটে উঠেছে।
এর পাশাপাশি পাঠ্যাংশে সংকলিত হয়েছে লেপচাদের মধ্যে প্রচলিত এক অপূর্ব লোককথা। পৃথিবীতে ভয়াবহ খরা হলে সৃষ্টিকে বাঁচাতে এক ছোট্ট ব্যাঙ বৃষ্টির খোঁজে ভগবানের প্রাসাদে যাত্রা করে। পথিমধ্যে মৌমাছি, মোরগ ও বাঘকে সঙ্গে নিয়ে তারা উদাসীন দেবরাজ ও তাঁর রক্ষীদের শায়েস্তা করে পৃথিবীতে বৃষ্টি নামাতে বাধ্য করেছিল।
📚 গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ (Word Meanings)
| শব্দ | অর্থ | শব্দ | অর্থ |
| খরা | অনাবৃষ্টি / দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়া | উল্লসিত | পরম আনন্দিত / খুব খুশি |
| প্রাসাদ | রাজপ্রাসাদ / সুরম্য অট্টালিকা | ফৈ | আসা (রাভা ভাষার শব্দ) |
| সাক্ষাৎ | দেখা করা / মুখোমুখি দর্শন | লৗগী | সঙ্গী, সহপাঠী বা সাথী |
| দানা | শস্যের বীজ বা কণা | না রীঁতিয়া | মাছ ধরতে যাওয়া |
| গাফিলতি | কাজে চরম অবহেলা বা উদাসীনতা | তিরস্কার | ধমক দেওয়া / বকাঝকা করা |
১. নিজের ভাষায় উত্তর দাও
১.১ পশ্চিমবঙ্গের যে-কোনো একটি পাহাড়ের নাম লেখো।
উত্তর: পশ্চিমবঙ্গের একটি বিখ্যাত পাহাড়ি শৃঙ্গ হলো দার্জিলিং জেলায় অবস্থিত টাইগার হিল (এছাড়াও বাঁকুড়া জেলার সুশুনিয়া পাহাড় বা পুরুলিয়া জেলার অযোধ্যা পাহাড়)।
১.২ পাহাড়ের কথা বললেই কোন ছবি তোমার চোখের সামনে ভেসে ওঠে?
উত্তর: পাহাড়ের কথা বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে মেঘে ঢাকা উঁচু উঁচু পাথুরে শৃঙ্গ, খাড়া ঢাল বেয়ে চলা আঁকাবাঁকা পথ, পাহাড়ি পাইন-ওকের ঘন সবুজ জঙ্গল আর বয়ে চলা উচ্ছ্বল পাহাড়ি ঝর্ণাধারা।
১.৩ বর্ষায় মাছ ধরা নিয়ে তোমার অভিজ্ঞতা বা মাছ ধরা নিয়ে পড়া একটি ছড়া লেখো।
অভিজ্ঞতা: বর্ষাকালে গ্রামের পুকুর-ডোবা যখন জলে থৈথৈ করে, তখন আমরা বন্ধুরা মিলে ছিপ ও পলো নিয়ে মাছ ধরতে যাই। কাদাজলে ভিজে মাছ ধরার সেই আনন্দ সত্যিই রোমাঞ্চকর।
প্রচলিত ছড়া:
"খোকন খোকন ডাক পাড়ি / খোকন মোদের কার বাড়ি / আয় রে খোকন ঘরে আয় / দুধ মাখা ভাত কাকে খায়।"
১.৪ বর্ষায় প্রকৃতির রূপ কেমন হয়? তোমার পাঠ্যবইতে বর্ষা নিয়ে আর কোন লেখা রয়েছে?
উত্তর: বর্ষাকালে প্রকৃতি যেন নতুন জলে স্নান করে সতেজ ও গাঢ় সবুজ রূপ ধারণ করে। নদী-নালা জলে ভরে যায় এবং সোঁদা মাটির সুবাস ছড়ায়। আমাদের পাঠ্যবইয়ে বর্ষা নিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত 'বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর' কবিতাটি রয়েছে।
২. বাক্য মেলাও ('ক' স্তম্ভের সঙ্গে 'খ' স্তম্ভ)
| 'ক' স্তম্ভ | 'খ' স্তম্ভ (সঠিক বাক্য অংশ) |
| চল মাছ ধরি গিয়ে | নতুন বছরের নতুন জলে |
| মাছরাঙা বার বার | ছোঁ মেরেও পায়নি মাছ |
| কুরয়া পাখি | উড়ে উড়ে কাঁদছে |
| বক্যেরা | উড়ছে সার বেঁধে |
| ছাপিয়ে গিয়েছে | নদীর কূল |
৩. প্রদত্ত সূত্র অনুসারে গানটি থেকে গল্প তৈরি করো
সম্পূর্ণ গল্পরূপ: নতুন বছরের নতুন জলে আনন্দ করে মাছ ধরতে যাওয়া হচ্ছে। বর্ষার এই সুন্দর প্রকৃতিতে নদীর কূল ছাপিয়ে গিয়েছে। মাঠ ঘাট, কত পাখি, যেমন কুরয়া পাখি আর বক। তারা কেউ মাছ পায়নি, এমনকি মাছরাঙাও ছোঁ মেরে মাছ ধরতে পারেনি। একদিকে মাছ না পাওয়া গেলে অন্য নদীর কূলে গিয়ে মাছ খুঁজতে হবে।
৪. উৎসবের অভিজ্ঞতার দিনলিপি (Diary Writing)
৪ উৎসবের দিনের একটি সুন্দর দিনলিপি:
তারিখ: ২৫শে বৈশাখ, রবীন্দ্র জয়ন্তী
আজ আমাদের বিদ্যালয়ে ও পাড়ায় রবীন্দ্র জয়ন্তী মহা সমারোহে পালিত হলো। সকালবেলা নতুন পোশাক পরে প্রভাতফেরিতে অংশ নিয়ে পাড়া পরিক্রমা করলাম। দুপুরে বন্ধুদের সাথে আনন্দ করে খাওয়াদাওয়া করেছি। বিকেলে বিদ্যালয়ের মঞ্চে আমি একটি রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করায় শিক্ষক মহাশয়রা খুব প্রশংসা করলেন। রাত অবধি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখে বাড়ি ফিরলাম। আজকের দিনটি আমার চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
৫. অন্য ভাষা থেকে অনূদিত দুটি বিখ্যাত লেখার নাম
৫ বিশ্বসাহিত্যের দুটি জনপ্রিয় অনূদিত গ্রন্থ:
১. ঈশপের গল্প (মূল প্রাচীন গ্রিক ভাষা থেকে অনূদিত নীতিগল্প)।
২. আরব্য রজনী বা আলিবাবা ও চল্লিশ চোরের কাহিনী (মূল আরবি সাহিত্য থেকে অনূদিত)।
৬. বৃষ্টির দিনের অভিজ্ঞতা জানিয়ে বন্ধুকে চিঠি
৬ বৃষ্টির দিনের অভিজ্ঞতা জানিয়ে চিঠি লিখন:
প্রিয় বন্ধু রাহুল,
আমার ভালোবাসা নিস। আশা করি তুই ভালো আছিস। আজ তোকে বর্ষার এক অবিস্মরণীয় দিনের কথা জানাচ্ছি। গত পরশু আমাদের এখানে মুষলধারে বৃষ্টি নেমেছিল। স্কুল ছুটির পর ছাতা বন্ধ করে আমরা বন্ধুরা মনের সুখে বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে বাড়ি ফিরলাম। রাস্তার জমা জলে আমরা রঙিন কাগজের নৌকো বানিয়ে ভাসিয়ে দিয়েছিলাম। বাড়ি ফিরতেই মা আদর করে গরম গরম খিচুড়ি আর ডিমভাজা খেতে দিয়েছিলেন। বৃষ্টির দিনের সেই আনন্দ আমি ভুলব না। তুই কেমন আছিস জানাস।
ইতি,
তোর অভিন্নহৃদয় বন্ধু,
সৌম্য
৭. বর্ষার প্রাকৃতিক দৃশ্য অঙ্কন নির্দেশিকা
প্রশ্ন: কবিতার উপাদান নিয়ে একটি ছবি আঁকো (নদীর কূল, জল থৈথৈ মাঠ, বকের সারি, মাছরাঙা, ছেলেমেয়েদের দল)।
উত্তর: (ছাত্রছাত্রীরা আর্ট পেপারে সুন্দর করে বর্ষার গ্রামবাংলার দৃশ্য আঁকবে—যেখানে দুকূল ছাপানো নদী, জলে ডোবা মাঠ, আকাশে উড়ন্ত বকের সারি, গাছের ডালে বসা মাছরাঙা ও জাল হাতে আনন্দিত শিশুদের দল থাকবে।)
৮. মাছে-ভাতে বাঙালির রূপ কীভাবে ফুটে উঠেছে?
৮ বাঙালির মাছে-ভাতে স্বভাবের প্রতিফলন:
উত্তর: মাছ আর ভাত বাঙালির প্রধান ও প্রিয় খাদ্য। রাভা লোকগানে দেখা যায়, বর্ষার নতুন জলে নদী-নালা ভরে উঠলেই সমস্ত ক্লান্তি ভুলে গ্রামবাসী পরম আনন্দে মাছ ধরতে বেরিয়ে পড়ে। পাখিরা মাছ না পেয়ে কাঁদলেও বা এক কূলে মাছ না মিললেও বাঙালি নিরাশ হয় না; তারা অন্য কূলে গিয়ে মাছের খোঁজ জারি রাখে। মাছের প্রতি এই অদম্য টানই তাদের 'মাছে-ভাতে বাঙালি' পরিচয়ের স্বাক্ষর বহন করে।
৯. পাঠ্যবইয়ের সংক্ষিপ্ত ও বোধমূলক প্রশ্নোত্তর
৯.১ বৃষ্টি কীভাবে প্রকৃতিকে বাঁচায়?
উত্তর: বৃষ্টির স্নিগ্ধ পরশে তপ্ত শুকনো মাটি পুনরুজ্জীবিত হয়, শুষ্ক নদী-নালা জলে ভরে ওঠে, বনস্পতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার ঘটে এবং কৃষিক্ষেত্রে ভালো ফসল ফলে। এভাবেই বৃষ্টি প্রকৃতিকে অনাবৃষ্টি ও মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করে।
৯.২ 'খরা' বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: দীর্ঘদিন একটানা বৃষ্টি না হওয়ার ফলে ভূগর্ভস্থ জলস্তর নেমে যাওয়া, সমস্ত নদী-নালা ও পুকুর শুকিয়ে যাওয়া এবং প্রচণ্ড উত্তাপে গাছপালা ও চাষের জমি ফেটে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার প্রাকৃতিক বিপর্যয়কে 'খরা' বা অনাবৃষ্টি বলা হয়।
৯.৩ অনাবৃষ্টির ফলে মানুষ, পশুপাখি, গাছপালার অবস্থা কেমন হয়েছিল?
উত্তর: লেপচা লোককথা অনুসারে, তীব্র অনাবৃষ্টির ফলে জল ও খাদ্যাভাবে সমগ্র জীবজগতে হাহাকার পড়ে গিয়েছিল। মানুষ, বনের পশুপাখি ও গাছপালা সব মৃত্যুর মুখে পতিত হতে শুরু করেছিল।
৯.৪ ভগবানের প্রাসাদে পৌঁছে ব্যাঙ কী দেখল?
উত্তর: ভগবানের প্রাসাদে পৌঁছে ব্যাঙ দেখল যে, মর্ত্যলোক যখন খরায় পুড়ছে, তখন ভগবান তাঁর মন্ত্রী ও স্ত্রীদের নিয়ে পরম আয়েশে সুরম্য ভোজ ও আমোদ-প্রমোদে মেতে আছেন।
৯.৫ প্রাসাদের দৃশ্য দেখে ব্যাঙ রাগে উত্তেজিত হয়ে পড়ল কেন?
উত্তর: পৃথিবীতে যখন জলের অভাবে প্রতি মুহূর্তে পশুপাখি ও মানুষের প্রাণ যাচ্ছে, তখন পালনকর্তা ভগবান ও তাঁর পারিষদরা সৃষ্টির দুর্দশার দিকে কর্ণপাত না করে বিলাসিতায় মত্ত ছিলেন। এই চরম দায়িত্বহীনতা ও অবহেলা দেখেই ব্যাঙ ক্ষোভে ফেটে পড়েছিল।
৯.৬ ভগবান ও তাঁর রক্ষীরা মৌমাছি, বাঘ ও মোরগের হাতে কীভাবে নাকাল হলো?
উত্তর: ব্যাঙের সঙ্কেতে ঝাঁকে ঝাঁকে মৌমাছি এসে রক্ষীদের মুখে হুল ফোটাতে লাগল, বাঘ প্রচণ্ড গর্জনে তাদের তাড়া করে ভয় পাইয়ে দিল এবং মোরগ তার তীক্ষ্ণ ডানা ঝাপটে তুমুল চিৎকার করে রক্ষীদের সম্পূর্ণ দিশেহারা ও নাকাল করে তুলল।
৯.৭ বৃষ্টি নিয়ে প্রচলিত দুটি ছড়া ও দুটি লোককাহিনীর নাম লেখো:
দুটি ছড়া:
১) "আয় বৃষ্টি ঝেঁপে / ধান দেব মেপে / লেবুর পাতা করমচা / যা বৃষ্টি ধরে যা।"
২) "বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর নদেয় এল বান / শিব ঠাকুরের বিয়ে হবে তিন কন্যে দান।"
দুটি লোককাহিনী:
১) ব্যাঙের সাথে বৃষ্টির লোককথা (লেপচা সম্প্রদায়)।
২) চাতক পাখি ও মেঘের রূপকথা।