✨ WBBSE Class 5
📖 পাতাবাহার বাংলা
📌 ১৫শ পাঠ সম্পূর্ণ নোটস
ফণীমনসা ও বনের পরি — বীরু চট্টোপাধ্যায় : সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর ও ব্যাকরণ সমাধান
বিষয়
বাংলা সাহিত্য
অধ্যায়
ফণীমনসা ও বনের পরি
নাট্যকার
বীরু চট্টোপাধ্যায়
পাঠ্যপুস্তক
পাতাবাহার
📖 নাটকের পরিচিতি ও সারমর্ম
মূলভাব: 'ফণীমনসা ও বনের পরি' নাট্যকার বীরু চট্টোপাধ্যায়ের রচিত একটি অত্যন্ত শিক্ষামূলক ও রূপকধর্মী নাটক। গভীর বনের এক ছোট্ট ফণীমনসা গাছ তার নিজস্ব কাঁটাভরা ছুঁচোলো পাতা নিয়ে ভীষণ অসন্তুষ্ট ছিল। সে বনের পরির কাছে বারবার নিজের রূপ পরিবর্তনের জন্য কাতর বায়না করতে থাকে।
প্রথমে সে সোনার পাতা পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হলেও ডাকাতেরা এসে তার সমস্ত পাতা লুট করে নিয়ে যায়। এরপর সে কাচের পাতা পায়, কিন্তু প্রবল ঝড়ে তা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে পড়ে যায়। তৃতীয়বার সে পালং শাকের মতো কচি পাতা পেলেও একটি ছাগল এসে সব পাতা চিবিয়ে খেয়ে তাকে ন্যাড়া করে দেয়। বারবার দুর্দশায় পড়ে অবশেষে গাছটি উপলব্ধি করে যে, প্রকৃতির দেওয়া নিজস্ব রূপই শ্রেষ্ঠ। শেষে সে নিজের পুরোনো কাঁটাভরা পাতাই পরির কাছে ফেরত চায়, যা তাকে বহিরাগত সমস্ত বিপদ থেকে বাঁচায়।
📚 গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ (Word Meanings)
| শব্দ | অর্থ | শব্দ | অর্থ |
| আপশোশ | আক্ষেপ বা দুঃখ প্রকাশ | স্বচক্ষে | নিজের চর্মচক্ষে দেখা |
| বিতিকিচ্ছিরি | ভীষণ কুৎসিত বা বিশ্রী | বায়নাক্কা | অযৌক্তিক আবদার বা বায়না |
| তথাস্তু | তবে তাই হোক (আশীর্বাদসূচক) | করুণা | দয়া বা অহিংস অনুগ্রহ |
| রামধনু | সূর্যালোক ও বৃষ্টির কণার সাতটি রং | দেমাক | অহংকার বা তীব্র গর্ব |
| মৃদুমন্দ | স্নিগ্ধ, আলতো ও ধীরে চলা | হাড়-জিরজিরে | অত্যন্ত কৃশ বা কঙ্কালসার |
| স্মরি | স্মরণ করি বা মনে করি | অঙ্গ | দেহ বা শরীরের অংশ |
১. নিজের ভাষায় সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও
১.১ ফণীমনসা তুমি দেখেছ? কোথায় দেখেছ?
উত্তর: হ্যাঁ, আমি ফণীমনসা গাছ দেখেছি। আমাদের বাড়ির টবে, নার্সারিতে এবং গ্রামের রাস্তার ধারের ঝোপঝাড়ে এই গাছ দেখেছি।
১.২ আর কোন কোন গাছ তুমি দেখেছ যাদের গায়ে কাঁটা আছে?
উত্তর: কাঁটাযুক্ত অন্যান্য উদ্ভিদ হলো— বাবলা, গোলাপ, বেল, লেবু, কুল এবং বিভিন্ন জাতের ক্যাকটাস।
১.৩ গাছের কাঁটা কীভাবে তাকে বাঁচায়?
উত্তর: গাছের তীক্ষ্ণ কাঁটাগুলি আত্মরক্ষার প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করে। ফলে গরু-ছাগল বা অন্য কোনো তৃণভোজী প্রাণী সহজে গাছের পাতা বা কচি ডাল খেয়ে গাছটিকে নষ্ট করতে পারে না।
১.৪ পরির গল্প তুমি কোথায় পড়েছ?
উত্তর: আমি রূপকথার গল্পগ্রন্থ 'ঠাকুরমার ঝুলি', উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর রচনা এবং গ্রিম ভাইদের রূপকথার বইতে পরির গল্প পড়েছি।
১.৫ সোনার মতো দামি আর কোন কোন ধাতুর কথা তুমি জানো?
উত্তর: সোনার মতো অন্যান্য মূল্যবান ধাতু হলো— রুপো (রূপা) এবং প্ল্যাটিনাম।
২. এলোমেলো বর্ণ সাজিয়ে অর্থপূর্ণ শব্দ তৈরি করো
| এলোমেলো বর্ণ | সঠিক অর্থপূর্ণ শব্দ |
| ল ত কা ডা দ | ডাকাতদল |
| রি বি চ্ছি তি কি | বিতিকিচ্ছিরি |
| ন ণী ফ সা ম | ফণীমনসা |
| কং পা শা ল | পালংশাক |
৩. এলোমেলো শব্দ সাজিয়ে সঠিক বাক্য গঠন করো
৩ শব্দ সাজিয়ে সঠিক বাক্য বিন্যাস:
৩.১ বলো চাও কীরকম তুমি পাতা। ➔ তুমি কীরকম পাতা চাও বলো।
৩.২ হয়েছে তো সুবুদ্ধি তোমার এই। ➔ এই তো তোমার সুবুদ্ধি হয়েছে।
৩.৩ না আর পাতা চাই সোনার। ➔ সোনার পাতা আর চাই না।
৪. পাঠ্য নাটক থেকে একই অর্থযুক্ত শব্দ খুঁজে লেখো
| প্রদত্ত শব্দ | নাটকে থাকা সমার্থক শব্দ | প্রদত্ত শব্দ | নাটকে থাকা সমার্থক শব্দ |
| বিশ্রী | বিতিকিচ্ছিরি | ভীষণ | ভয়ানক |
| অনেক | অজস্র | প্রতিজ্ঞা | পণ |
| বল্লম | বর্শা | সমস্ত | বেবাক |
| ভাগ্য | বরাত | আবদার | বায়নাক্কা |
| অবস্থা | হাল | শরীর | অঙ্গ |
| গর্ব | দেমাক | তবে তাই হোক | তথাস্তু |
| হঠাৎ | সহসা | কঙ্কালসার | হাড়-জিরজিরে |
৫. নাটকে ব্যবহৃত ধ্বন্যাত্মক ও আওয়াজসূচক শব্দসমূহ
৫ আওয়াজ নির্দেশক বিশেষ শব্দাবলী:
উত্তর: সরাৎ সরাৎ, টুং-টাং, হু-হু-হু, শোঁ-শোঁ-শোঁ, মট মট মট, পত পত পত, ঝন ঝন ঝন।
৬. বাচনভঙ্গি ও ভাবপ্রকাশের রূপ
৬ মুখে বলার সঠিক অভিব্যক্তি:
তোমায় স্মরি: হাত জোড় করে ভক্তিভরে মাথা নিচু করে বিনীতভাবে বলব।
করুণা করি বাঁচাও: কাতর ও অসহায় সুরে কেঁদে কেঁদে দুই হাত বাড়িয়ে মিনতি করে বলব।
৭. শব্দঝুড়ি থেকে সমার্থক শব্দ বসিয়ে বাক্য পুনর্লিখন
৭ শব্দঝুড়ি: অবিরাম, অবস্থা, গগন, যন্ত্রণা, চারাগাছ, প্রবল, আরম্ভ
৭.১ আহা-হা ব্যথায় মরি। ➔ আহা-হা যন্ত্রণায় মরি।
৭.২ শুরু হলো কচি গাছের অঝোর কান্না। ➔ আরম্ভ হলো চারাগাছের অবিরাম কান্না।
৭.৩ ডাকাতেরা আমার কী হাল করে রেখে গেছে। ➔ ডাকাতেরা আমার কী অবস্থা করে রেখে গেছে।
৭.৪ আকাশ দিয়ে ধেয়ে এল দুর্দান্ত ঝড়। ➔ গগন দিয়ে ধেয়ে এল প্রবল ঝড়।
৮. ভাব অনুযায়ী বাক্য রূপান্তর (শব্দঝুড়ি থেকে)
৮ শব্দঝুড়ি: গর্বে বুক ভরে ওঠে, মাফ করে দাও, লোভ জাগছে, হিংসায় জ্বলে ওঠে
৮.১ মন তার রি রি করে ওঠে। ➔ মন তার হিংসায় জ্বলে ওঠে।
৮.২ ছোট্ট গাছটির এবার দেমাক যেন মাটিতে পা পড়ে না। ➔ ছোট্ট গাছটির এবার গর্বে বুক ভরে ওঠে।
৮.৩ জিবে জল ঝরছে তোরে পেয়ে গো। ➔ লোভ জাগছে তোরে পেয়ে গো।
৮.৪ ঘাট হয়েছে কানে ধরি। ➔ মাফ করে দাও কানে ধরি।
৯ & ১০. অনুকার শব্দ ও শব্দদ্বৈতের বহুবচন প্রয়োগ
৯-১০ শব্দ গঠন ও বহুবচনীয় রূপ:
অনুকার শব্দ (যুগ্ম শব্দ): গাছ-টাছ, পাতা-টাতা, বই-টই, জল-টল, ওষুধ-বিষুধ।
শব্দদ্বৈত দিয়ে বহুত্ব বোঝানো: ছোটো ছোটো, বড়ো বড়ো, গুঁড়ো গুঁড়ো, কেঁদে কেঁদে, ছিঁড়ে ছিঁড়ে।
১১. বিপরীতার্থক শব্দ নির্ণয় ও বাক্য রচনা
| মূল শব্দ | বিপরীত শব্দ | গঠিত সার্থক বাক্য |
| দুবুদ্ধি | সুবুদ্ধি | ভুল বুঝতে পেরে ফণীমনসার অবশেষে সুবুদ্ধি হয়েছিল। |
| অসন্তুষ্ট | সন্তুষ্ট | ঈশ্বর প্রদত্ত নিজের রূপ নিয়েই সদা সন্তুষ্ট থাকা শ্রেয়। |
| অসুন্দর | সুন্দর | পরির আশীর্বাদে গাছটি ঝলমলে ও সুন্দর সোনার পাতা পেয়েছিল। |
| দুঃখ | শান্তি / আনন্দ | নিজের কাঁটাভরা পাতা ফিরে পেয়ে গাছটির মনে চরম শান্তি ফিরে এল। |
| অল্প | অজস্র | গাছটির ডালপালা জুড়ে অজস্র কাচের পাতা ঝুলছিল। |
| বুড়ো | বাচ্চা | গাছের ডাল ভেঙে যাওয়ায় বাচ্চা চারাগাছটি কান্নায় ভেঙে পড়ল। |
১২. 'মন্দ' শব্দের ভিন্নার্থে প্রয়োগ
১২ 'মন্দ' শব্দটির দুটি আলাদা অর্থ:
মন্দ (ধীর / মৃদু): সন্ধ্যার মুখে নদীর ধার দিয়ে মৃদুমন্দ শীতল বাতাস বইছে।
মন্দ (খারাপ / কুৎসিত): ছেলেটি পড়াশোনায় কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও স্বভাবে মোটেও মন্দ নয়।
১৩. বাক্য রচনা করো
১৩ অর্থপূর্ণ বাক্যে প্রয়োগ:
ওলটপালট: কাল রাতের কালবৈশাখীর তাণ্ডবে বাগানের সমস্ত কিছু ওলটপালট হয়ে গেছে।
দুর্দান্ত: আজ বিকেলে আমাদের স্কুলের মাঠে একটি দুর্দান্ত ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
ঝিকিমিকি: রোদের আলো কাচের ওপর পড়ে রামধনুর মতো ঝিকিমিকি করছে।
স্বচক্ষে: আমি স্বচক্ষে দেখলাম কীভাবে সাহসী পুলিশ চোরটিকে ধরে ফেলল।
দুর্দশা: বিধ্বংসী বন্যায় নদীর পাড়ের গরিব মানুষদের চরম দুর্দশা শুরু হয়েছে।
১৪. কোনটি কী ধরনের বাক্য লেখো
| প্রদত্ত বাক্য | বাক্যের প্রকারভেদ |
| ১৪.১ আ! কি শান্তি! | বিস্ময়বোধক বাক্য |
| ১৪.২ পাতা পালটাতে চাও? | প্রশ্নবোধক বাক্য |
| ১৪.৩ সোনার পাতা আর চাই না। | না-সূচক বা নেতিবাচক বাক্য |
| ১৪.৪ বেশ তাই হোক! তথাস্তু! | অনুজ্ঞাসূচক বাক্য |
| ১৪.৫ এবার তুমি আমায় কাচের পাতা দাও। | অনুজ্ঞাসূচক / প্রার্থনাসূচক বাক্য |
১৫. ছোটো ছোটো বাক্যে ভেঙে লেখো
১৫ বাক্য বিভাজন:
১৫.১ কাচের পাতার ওপর সূর্যের কিরণ পড়ে রামধনু রং ঝিকিমিকি খেতে লাগল।
➔ কাচের পাতার ওপর সূর্যের কিরণ পড়ল। রামধনু রং ঝিকিমিকি খেতে লাগল।
১৫.২ পরি অদৃশ্য হতেই ফণীমনসার গা ভরে দেখা দিল কচি নরম পাতা।
➔ পরি অদৃশ্য হয়ে গেল। ফণীমনসার গা ভরে কচি নরম পাতা দেখা দিল।
১৫.৩ ডাকাতরা সব সোনার পাতা ছিঁড়ে নিয়ে পোঁটলা বেঁধে ওকে একেবারে ন্যাড়া করে রেখে গেল।
➔ ডাকাতরা সব সোনার পাতা ছিঁড়ে নিল। তারা পোঁটলা বাঁধল। ওকে একেবারে ন্যাড়া করে রেখে গেল।
১৫.৪ ভয়ানক ঝড়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই ফণীমনসা গাছের সমস্ত পাতা ছড়িয়ে পড়ে গেল।
➔ ভয়ানক ঝড় এল। কিছুক্ষণের মধ্যেই ফণীমনসা গাছের সমস্ত পাতা ছড়িয়ে পড়ে গেল।
১৬. বাক্য সংযোজন (একটি বাক্যে রূপান্তর)
১৬ একাধিক সরল বাক্য যুক্ত করে একক বাক্য গঠন:
১৬.১ একসময় ঝড় থামল। আর শুরু হলো বাচ্চা গাছের অঝোর কান্না। ➔ একসময় ঝড় থামলে বাচ্চা গাছটির অঝোর কান্না শুরু হলো।
১৬.২ এমন সময়ে সে পথ দিয়ে যাচ্ছিল বনের পরি। ওর কান্না শুনে থমকে দাঁড়াল সে। ➔ এমন সময়ে সে পথ দিয়ে যাওয়ার সময় ওর কান্না শুনে বনের পরি থমকে দাঁড়াল।
১৬.৩ গভীর বন। তার ভেতরে ছোট্ট একটি ফণীমনসা গাছ। গাছটির মনে কিন্তু এক ফোঁটাও শান্তি নেই। ➔ গভীর বনের ভেতরে ছোট্ট একটি ফণীমনসা গাছ থাকলেও তার মনে এক ফোঁটাও শান্তি ছিল না।
১৬.৪ ছোট্ট গাছটির এবার দেমাকে যেন মাটিতে পা পড়ে না। মৃদুমন্দ বাতাসে হেলতে দুলতে লাগল সে মজা করে। ➔ ছোট্ট গাছটির দেমাকে মাটিতে পা না পড়ায় সে মৃদুমন্দ বাতাসে মজা করে হেলতে দুলতে লাগল।
১৭ & ১৮. বিশেষণ প্রয়োগ ও কাল পরিবর্তন
১৭-১৮ ব্যাকরণগত রূপান্তর:
বিশেষণযুক্ত পদবন্ধ: কচি নরম সবুজ পাতা, ছোট্ট কাঁটাভরা ফণীমনসা গাছ, ন্যাড়া হাড়-জিরজিরে চেহারা, জোয়ান বাবরিওয়ালা নিষ্ঠুর ডাকাত।
কাল পরিবর্তন:
• আকাশ দিয়ে ধেয়ে এল দুর্দান্ত ঝড়। (ভবিষ্যৎ কাল) ➔ আকাশ দিয়ে ধেয়ে আসবে দুর্দান্ত ঝড়।
• বলতে দেরি আছে কিন্তু নিতে দেরি নেই। (অতীত কাল) ➔ বলতে দেরি ছিল কিন্তু নিতে দেরি ছিল না।
• সে-পথ দিয়ে যাচ্ছিল বনের পরি। (বর্তমান কাল) ➔ সে-পথ দিয়ে যাচ্ছে বনের পরি।
১৯. একটি বাক্যে উত্তর দাও
১৯ সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর:
১৯.১ ফণীমনসার মনে শান্তি ছিল না কেন? ➔ নিজের কাঁটাভরা বিশ্রী পাতার জন্য তার মনে শান্তি ছিল না।
১৯.২ আশেপাশের গাছের পাতা কেমন ছিল? ➔ আশেপাশের সমস্ত গাছের সুন্দর ও মসৃণ পাতা ছিল।
১৯.৩ পাতা পালটানোর আবেদন কার কাছে করেছিল? ➔ দয়ালু বনের পরির কাছে আবেদন করেছিল।
১৯.৪ প্রথম আবেদনে কেমন পাতা হয়েছিল? ➔ গাছভর্তি চকচকে সোনার পাতা হয়েছিল।
১৯.৫ সোনার পাতা হারাল কীভাবে? ➔ একদল নিষ্ঠুর ডাকাত এসে সব পাতা লুটে নিয়ে যায়।
১৯.৬ ডাকাতদলকে দেখতে কেমন ছিল? ➔ ডাকাতরা জোয়ান, কানে জবাফুল গোঁজা এবং মাথায় বাবরি চুল ছিল।
১৯.৭ ঝড়ে কাচের পাতার কী হলো? ➔ ঝড়ের ধাক্কায় কাচের পাতাগুলো ভেঙে গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে গেল।
১৯.৮ দেমাকে মাটিতে পা পড়ছিল না কেন? ➔ কচি নরম সবুজ পালং পাতা পেয়ে তার গর্ব হয়েছিল।
১৯.৯ সেই দেমাক ভাঙল কীভাবে? ➔ একটা ছাগল এসে সব কচি পাতা চিবিয়ে খেয়ে নেওয়ায় দেমাক ভেঙে গেল।
১৯.১০ শেষপর্যন্ত ফণীমনসা কেমন পাতা চাইল? ➔ সে তার নিজের পুরোনো কাঁটাভরা ছুঁচোলো পাতাই চাইল।
২০. বিশদ ও ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর
২০.১ বাচ্চা গাছটি তো মহা খুশি—এত আনন্দ কখন হলো বাচ্চা গাছের?
উত্তর: বনের পরি যখন ফণীমনসার কাতর মিনতি শুনে তার বিশ্রী কাঁটাভরা পাতা দূর করে পুরো গাছটিকে ঝলমলে সোনালী রঙের মণিমুক্তোখচিত সোনার পাতায় সাজিয়ে দিল, তখন নিজের রূপ দেখে বাচ্চা গাছটি আনন্দে ডগমগ হয়ে উঠেছিল।
২০.২ কাচের পাতায় ভরে ওঠবার পরে তার চেহারাটি কেমন হয়েছিল?
উত্তর: কাচের পাতায় ভরে ওঠার পর গাছটি এক অপরূপ সৌন্দর্য লাভ করেছিল। সূর্যের কিরণ পড়ে কাচের পাতায় রামধনুর সাতটি রং ঝিকিমিকি করতে লাগল এবং মৃদু বাতাসে পাতাগুলি একে অপরের গায়ে লেগে সুমধুর 'টুং-টাং' কাচের বাজনার শব্দ সৃষ্টি করতে লাগল।
২০.৩ ছাগল এসে উপস্থিত হওয়ায় কী ঘটল?
উত্তর: তৃতীয়বার পরি যখন ফণীমনসাকে পালং শাকের মতো কচি ও মিষ্টি নরম পাতা দিল, তখন একটি ক্ষুধার্ত ছাগল সেখানে এসে লোভের বশে কচকচ করে সমস্ত কচি পাতা চিবিয়ে খেয়ে গাছটিকে একেবারে কঙ্কালসার ও ন্যাড়া করে রেখে চলে গেল।
২০.৪ ছোট্ট গাছটি সত্যিই কি খুব শিক্ষা পেল? কেমন সে শিক্ষা?
উত্তর: হ্যাঁ, বারবার রূপ বদলানোর চরম বিপদে পড়ে ফণীমনসা গাছটি এক গভীর ও বাস্তব জীবনের শিক্ষা লাভ করেছিল।
সে বুঝতে পারল যে—অন্যের রূপ দেখে অন্ধভাবে হিংসা করা বা নিজের স্বাভাবিক রূপ নিয়ে অতৃপ্ত থাকা অত্যন্ত ক্ষতিকর। প্রকৃতি বা ঈশ্বর যাকে যে রূপ ও গুণ দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, সেটাই তার অস্তিত্ব ও আত্মরক্ষার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ও নিরাপদ। নিজের কাঁটাভরা পাতাই যে পশু ও মানুষের হাত থেকে তাকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে, সে তা চিরদিনের মতো বুঝতে পেরেছিল।